
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। মোট ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি অর্ধেকেরও বেশি আসন জিতেছে এবং সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ প্রবণতা অনুসারে, বিএনপি ১৮১টি আসন পেয়েছে, জামাত ও তার মিত্ররা ৫১টি আসন পেয়েছে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন পেয়েছে, অন্যান্যরা ৬টি আসন পেয়েছে।
তারেক রহমান কে? (Who is Tarique Rahman?)
তারেক রহমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার পুত্র, যারা স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক অঙ্গনের দুই উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। বাংলাদেশ এবং বিদেশে শিক্ষিত রহমান একজন কৌশলবিদ এবং সংগঠক হিসেবে দলীয় স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন, এমনকি যখন তাঁর মা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়কালেও তিনি বিএনপির নেতা হয়ে ওঠেন।
১৭ বছর ধরে রহমান লন্ডনে স্ব-নির্বাসনে ছিলেন। ২০০৭ সালে সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এক বছর পরে ২০০৮ সালে তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কারণ হেফাজতে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগে তাঁকে এতটাই দুর্বল করে ফেলেছিল বিমানের মধ্য়ে হুইলচেয়ারে করে তাঁকে নিয়ে যেতে হয়েছিল। হাসিনার পরবর্তী ১৫ বছরের শাসনামলে রহমানকে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যদিও তারেক অভিযোগ অস্বীকার করেন। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই মামলা করা হয় বলে দাবি করেছিলেন তারেক।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের উৎখাত এবং পরবর্তী আদালতের রায়ে তারিকের সাজা বাতিল হয়। এরপর রহমান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে আসেন। বিপুল জনতা তাঁকে স্বাগত জানায় এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক শক্তির সঞ্চার হয়। ফিরে আসার পর তিনি ভোটার তালিকায় নামও তোলেন। যা তাঁকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম করে।
তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা (Tarique Rahman's educational qualifications)
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান শাহিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তাঁর স্কুলের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেটে (এইচএসসি) ভাল রেজাল্ট করেছিলেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তারেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু তিনি স্নাতকের পড়াশোনা শেষ করেননি এবং দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা ছেড়ে টেক্সটাইল এবং শিপিং ব্যবসার দিকে মনোনিবেশ করেন।
রাজনৈতিক উত্থান
১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলীতে বিএনপির উপজেলা শাখার প্রাথমিক সদস্য হিসেবে রহমান তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিএনপির প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন, যখন বাংলাদেশ সামরিক শাসন থেকে নির্বাচিত সরকারে রূপান্তরিত হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপির বিজয়ের পর, রহমান বগুড়ায় দলীয় কাজ চালিয়ে যান। ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কোনও সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি তবে তাঁর মা যে নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানে প্রচার করেছিলেন।
২০০০ সালের গোড়ার দিকে তাঁর মায়ের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিএনপির মধ্যে রহমান খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালে ব্রিটেনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন তারেক। গত ২৫ স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পাঁচ দিন পর খালেদা জিয়া দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। ৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক।