বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের লাভ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে পড়ুন বিশেষ প্রতিবেদন। তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি কি পাকিস্তান ও আইএসআই-এর প্রভাব কমিয়ে ভারতকে স্থিতিশীলতা দেবে?

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস মিলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে ভারতের জন্য তা একটি নতুন ও ইতিবাচক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক শীতল ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে ভারতের জন্য ‘সেরা বিকল্প’ (Best-case scenario) হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতের কী কী লাভ?

ভারতের জন্য অন্যতম প্রধান লাভের জায়গা হলো একটি স্থির ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ইতিপূর্বেই ঘোষণা করেছে যে তাদের বৈদেশিক নীতি হবে ‘অর্থনীতি-ভিত্তিক’ এবং মূল দর্শন হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এই নীতি অনুযায়ী, বিএনপি ভারতের সঙ্গে নির্ভরশীলতার বদলে পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী, যা দিল্লির জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে পারে। এছাড়া বছরে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ভারতের ৩.৪ শতাংশ বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের ভূমিকা অপরিসীম, যা বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরও সুসংহত হতে পারে।

পাকিস্তানের মুখ পুড়ল?

অন্যদিকে, দিল্লির একটি বড় উদ্বেগের জায়গা হল বাংলাদেশে পাকিস্তান ও আইএসআই-এর সক্রিয়তা বৃদ্ধি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আইএসআই-এর প্রভাব কমে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান—‘নট দিল্লি, নট পিন্ডি—বাংলাদেশ বিফোর এভরিথিং’। অর্থাৎ, তিনি কোনো বিশেষ বিদেশি শক্তির বলয়ে না থেকে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে চান। বিএনপি তাঁর পুরোনো ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠে এখন নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে এবং জামায়াতে ইসলামীর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।

আইএসআইয়ের সক্রিয়তা কমবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বের এই বাস্তবসম্মত অবস্থান পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর কর্মকাণ্ডকে সংকুচিত করতে পারে। পাকিস্তান অতীতে জামায়াত বা উগ্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে বাংলাদেশে যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করত, বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কারণে তা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর দল উগ্রবাদী সংগঠনে বিশ্বাসী নয়।

মোদীর শুভেচ্ছা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ইতিপূর্বেই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ‘প্রগতিশীল’ বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদি বিএনপি সরকার তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে শ্রদ্ধা জানায় এবং উগ্রপন্থীদের দমনে কঠোর থাকে, তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ায় দিল্লির হাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পাকিস্তানের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনবে। পরিশেষে, দিল্লির জন্য বিএনপির ক্ষমতায় আসা কেবল একটি স্ট্র্যাটেজিক সুযোগই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ প্রতিবেশী নিশ্চিত করার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে।

Scroll to load tweet…

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।