
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, কঙ্গোতে এখনও পর্যন্ত ৯০০-র বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর খোঁজ মিলেছে। তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা, ভয় এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে недоверие পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
টেড্রোস জানান, ইটুরি প্রদেশের দুর্গম এবং অসুরক্ষিত এলাকাগুলোতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সহযোগীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "এই অঞ্চলের মানুষ শুধু ইবোলার সঙ্গেই লড়ছে না, আরও নানা রোগের সম্মুখীন হচ্ছে।"
এই প্রাদুর্ভাবের কারণ ইবোলা ভাইরাসের 'বুন্দিবুগিও' (Bundibugyo) প্রজাতি। চিন্তার বিষয় হল, এই বিশেষ প্রজাতির ভাইরাসের জন্য এখনও কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, രോഗബാധിത এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের জ্বর পরীক্ষা করার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম মধ্য আফ্রিকার গহীন বৃষ্টি-অরণ্যের কাছাকাছি প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে ছড়াতে শুরু করে। ১৯৭৬ সালে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। তবে সবচেয়ে বড় এবং জটিল প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায়। গিনি থেকে শুরু হয়ে এই রোগ সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইবোলার প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, রক্তক্ষরণ, শরীর কাহিল হয়ে পড়া এবং পেশিতে ব্যথা। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে নির্গত তরলের মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আফ্রিকান দেশগুলিতে আরও বেশি করে மருத்துவ সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করছে, যাতে ২০১৪-২০১৬ সালের মতো বড় আকারের মহামারি আবার ফিরে না আসে।