Two Planes Nearly Collide আমেরিকার আকাশে এক বড়সড় বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল মার্কিন এয়ারলাইন্সের দুটি যাত্রীবাহী বিমান। ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে দুটি বিমান বিপজ্জনকভাবে একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে।

Two Planes Nearly Collide আমেরিকার আকাশে এক বড়সড় বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল মার্কিন এয়ারলাইন্সের দুটি যাত্রীবাহী বিমান। ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে দুটি বিমান বিপজ্জনকভাবে একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারের (ATC) তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও বিচক্ষণতায় কয়েক শ' যাত্রীর প্রাণ বাঁচল। কিন্তু কী কারণে এতবড় ভুল? আসলে ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের এক মারাত্মক প্রযুক্তিগত ভুল। জানা গিয়েছে, দুটি বিমানই ভুলবশত একই ফ্লাইট নম্বর,'আমেরিকান এয়ারলাইন্স ২৪৮২' (American Airlines Flight 2482) ব্যবহার করে এতদিন চলাচল করছিল।

ঠিক কী হয়েছিল

সূত্রের খবর, একটি বিমান শিকাগো থেকে যাত্রা শুরু করে ফিনিক্স বিমানবন্দরে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক একই সময়ে অন্য বিমানটি ফিনিক্স থেকে টেক অফ করে গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। তবে বড় বিভ্রাট ঘটে রানওয়ে এবং আকাশে সিগন্যাল আদান-প্রদানের সময়ে। টেক অফ ও ল্যান্ডিংয়ের জন্য দুটি বিমানই একই কল সাইন বা ফ্লাইট নম্বর ব্যবহার করায় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার রাডারে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হতে পারত

সামান্যতম ভুলেই দুটি বিমানের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হতে পারত। কিন্তু সেই চরম বিপর্যয় রুখে দেন দায়িত্বে থাকা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার। মুহূর্তের মধ্যে জটিলতা অনুধাবন করে সতর্ক হন তিনি। রিয়েল-টাইমে রাডার পর্দায় একই নম্বরের দুটি বিমানকে আলাদা করতে সক্ষম হন ওই আধিকারিক- একটিকে 'অ্যারাইভাল' (অবতরণকারী) এবং অন্যটিকে 'ডিপার্চার' (উড্ডয়নকারী) হিসেবে চিহ্নিত করে শুরু হয় জরুরি যোগাযোগ।

কন্ট্রোল রুমে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’

কন্ট্রোল রুম থেকে কালবিলম্ব না করে দুটি বিমানের পাইলটদের কাছেই নির্দেশ পাঠানো হয়। বিশেষ করে দুই বিমানের মধ্যে যেন নিরাপদ উলম্ব দূরত্ব বজায় থাকে, তার জন্য জরুরি বার্তা দেন এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার। দুই চালককে একে অপরের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পাইলট ও কন্ট্রোলারের দ্রুত সমন্বয়ের ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মাঝআকাশে বিপদ এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই দুটি বিমান নিজেদের গন্তব্যে এগিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি এবং ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

তবে ফ্লাইট নম্বরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে কীভাবে একই নম্বর দুটি পৃথক বিমানে বরাদ্দ করা হলো, তা নিয়ে বড়সড় সুরক্ষাজনিত প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আপাতত মার্কিন এয়ারলাইন্সের এই গুরুতর কাজের ভুলটি নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত মিলেছে।