World's Most Expensive Mattress: বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই গদির দাম সাড়ে ৭ কোটি টাকা! তুলোর বদলে কী থাকে জানেন?

Published : Sep 09, 2026, 02:11 PM IST
Worlds most expensive mattress

সংক্ষিপ্ত

World's Most Expensive Mattress: তুলো নয় বরং এমন একটা জিনিস দিয়ে এই গদি বানানো হয়, যা জানলে সত্যিই আশ্চর্য হবেন..কারা কেনেন সাড়ে ৭ কোটি টাকা দিয়ে এই গোদি?

প্রায় ১০ কোটি টাকার গদি দেখেছেন কখনও?অধিকাংশ মানুষের জন্য গদি এমন একটি জিনিস, যা কেনার সময় আরাম, এবং দাম দেখা হয়। কিন্তু একটু ভাবুন, যদি কোনো গদির দাম কোটি টাকা হয়? শুনতে অবাক লাগলেও, সত্যি এমন একটি গদি আছে যার দাম প্রায় ৭.৩ কোটি টাকা । বিশেষত শুধু এর দাম নয়, বরং এটি তৈরির পদ্ধতিও একদম আলাদা। এই গদি সুইডেনের প্রসিদ্ধ কোম্পানি হেস্টেন্স (Hastens) তৈরি করে। কোম্পানির সবচেয়ে দামি মডেল হল গ্র্যান্ড ভিভিডাস (Grand Vividus), যার দাম প্রায় ৭.৩ কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন ওঠে, এই গদিতে এমন কি আছে, যে এর দাম এত বেশি?

১৮৫২ সালে শুরু হয়েছিল কোম্পানি। হেসটেন্সের গল্পও বেশ পুরনো। এই কোম্পানি ১৮৫২ সালে পের অ্যাডলফ জনসন (Per Adolf Jansson) শুরু করেছিলেন। এত বছর পরে ও কোম্পানিটি আজও তাদের পরিবারের দ্বারাই পরিচালিত হচ্ছে। আজ হেসটেন্স বিভিন্ন ধরনের মাদুর তৈরি করে এবং কোম্পানির মতে তাদের কাছে ১৩ ধরনের গদি আছে। এর মধ্যে গ্র্যান্ড ভিভিডস সবচেয়ে ব্যয়বহুল মডেলগুলোর মধ্যে একটি। এটাকে শুধু একটি গদি নয়, বরং হাতে তৈরি করা একটি লাক্সারি বেড সেট হিসেবেও ধরা হয়।

কোটি টাকা মূল্যের এই গদি তৈরি করতেও বেশ অনেকটা সময় লাগে। আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্র্যান্ড ভিভিডস সম্পূর্ণভাবে হাতে তৈরি হয় এবং এটি তৈরি করতে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা বা ২৫ দিন সময় লাগতে পারে। এর সবচেয়ে বিশেষ বিষয় হল এর মধ্যে ব্যবহৃত উপকরণ। সাধারণ গদিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক ফোমের বদলে এতে ব্যবহার করা হয় ঘোড়ার লেজের চুল, কটন, উল এবং ফ্ল্যাক্সের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ।

ঘোড়ার লোম থেকে তৈরি হয় ন্যাচারাল স্প্রিং। এখন প্রশ্ন আসে, একে গদিতে রাখার কি দরকার? আসলে, এই লোমগুলোকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে চক্রীয় রিং বা স্পাইরাল আকার দেওয়া হয়। এরপর এগুলো গদির মধ্যে ছোট ছোট ন্যাচারাল স্প্রিং হিসেবে কাজ করে। কোম্পানির মতে, এর ফলে গদিটা নমনীয় হয় এবং শরীরকে সাপোর্ট করতে সাহায্য করে। এ কারণেই, এই গদি তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণ ও কারিগরি এটিকে সাধারণ ম্যাট্রেস থেকে অনেক আলাদা করে।

এই গদিতে ব্যবহার করা ঘোড়ার লোমের আরেকটি বিশেষ কাজ আছে। এর গঠন বাতাসের প্রবাহে সাহায্য করে, ফলে গদির ভেতরে আর্দ্রতা জমার সম্ভাবনা কমে যায়। একই সময়ে, কটন গদিটিকে মজবুত করে, উল এর স্থায়িত্বের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং ফ্ল্যাক্স স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি কমাতে সাহায্য করে। এই সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ার কারণে কোম্পানিটি এই গদিতে ২৫ বছরেরওয়ারেন্টি দেয়।

৭.৩ কোটি টাকা দামই শুধু আশ্চর্যের নয় পাশাপশি এর ওজনও কম অবাক করা নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ১৮০×২১০ সেন্টিমিটার আকারের পুরো বিছানার সেটের ওজন প্রায় ৪৫৫ কেজি। পুরো সেটের উচ্চতা প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার। এতে ৭ সেন্টিমিটারের টপ মেট্রেস, ২৭ সেন্টিমিটারের মূল গদি, ৩৩ সেন্টিমিটারের বেস এবং ৮ সেন্টিমিটারের গ্র্যান্ড ভিভিডস পডিয়াম অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এটি কেবল একটি গদি কেনার মতো নয়, বরং পুরো লাক্সারি বিছানার সেট তৈরি করা হয়।

গ্র্যান্ড বিবিডসের সঙ্গে যে হেডবোর্ডটা আসে তা খুবই সুন্দর ডিজাইনে তৈরি করা হয়েছে। এর উচ্চতা প্রায় ১৪৫ সেন্টিমিটার বলা হয়েছে। প্যাডিংসহ ফ্রেমের গভীরতা ৩২ সেন্টিমিটার এবং নিচের উইঙ্গের গভীরতা ৫৫ সেন্টিমিটার। কোম্পানির মতে, এটিকে পায়ের সঙ্গে নরমাল বিছানার মতো রাখার পরিবর্তে সরাসরি মেঝেতে দেয়ালের সঙ্গে সাপোর্ট দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অর্থাৎ এই পুরো সেটের ডিজাইনিং-এও অনেক যত্ন নেয়া হয়েছে।

হলিউড তারকা থেকে শুরু করে রাজকীয় পরিবার পর্যন্ত হেস্টেন্সের গদির জনপ্রিয়তা কেবল সাধারণ গ্রাহক বা বিলাসবহুল হোটেল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির গদি ব্যবহার করা সুপরিচিত সেলিব্রিটিদের মধ্যে হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ, পপ স্টার বিয়নসে এবং র‍্যাপার ড্রেকের নামও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বিশ্বের বহু বিলাসবহুল হোটেলও হেস্টেন্সের বিছানা ব্যবহার করে। কোম্পানি আজ ৪৫টিরও বেশি দেশে ব্যবসা করে এবং তার বিলাসবহুল বিছানা ও ম্যাট্রেসের জন্য পরিচিত।

যদি আপনি ভাবছেন যে কোটি টাকার এই গদি শুধু বিদেশে পাওয়া যায়, তা ঠিক নয়। হেস্টেন্সের ভারতেও স্টোর আছে। দিল্লিতে এর স্টোর ডিফেন্স কলোনি এবং এমজি রোডে রয়েছে। আর মুম্বাইয়ে ভার্লিতে এর স্টোর, যেখানে গ্রাহকরা কাস্টমাইজড স্লিপ কনসালটেশন নিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কথা আবার সেই একই প্রশ্নে আসে, কি কোনও+- গদি সত্যিই কোটি টাকার হতে পারে? গ্র্যান্ড ভিভিডসের দাম দেখে উত্তর হয় হ্যাঁ। কিন্তু এর দাম শুধু সোনার জন্য নয়, এটি হাতে তৈরি কারুশিল্প, প্রাকৃতিক উপাদান, ডিজাইন এবং লাক্সারি অভিজ্ঞতার জন্যও দেওয়া হয়। ঠিক এই কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি লাক্সারি ম্যাট্রেসগুলোর মধ্যে নিজের আলাদা পরিচয় রাখে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ধেয়ে আসছে বছরের তীব্রতম ঘূর্ণিঝড়, রাত থেকেই উপকূলে তাণ্ডবের পূর্বাভাস
Emissions Reduction: একজনের ভুলে শেখে বাকিরা, দূষণ কমাতে আমেরিকার নতুন দাওয়াই