আমেরিকার একটি গবেষণা বলছে, যখন কোনো একটি কারখানার উপর দূষণের জন্য কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন তার আশেপাশের অন্য কারখানাও নিজেদের দূষণ কমাতে শুরু করে। পরিবেশ নীতিতে এই প্রভাব এতদিন চোখেই পড়েনি।
অনেকদিন ধরেই পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ভাবছিলেন, কোম্পানিগুলোকে আর্থিক সুবিধার লোভ দেখালেই তারা পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে। যেমন ব্ল্যাকরকের সিইও ল্যারি ফিঙ্ক ২০২০ সালে বলেছিলেন, “জলবায়ুর ঝুঁকি মানেই বিনিয়োগের ঝুঁকি।” ধারণা ছিল, বাজারই টেকসই সংস্থাগুলোকে পুরস্কৃত করবে।
কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য বলছে অন্য কথা। শুধু সুবিধার টোপ দিয়ে তেমন বড় কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি। বরং এখন সবাই একমত যে পরিবেশকে বাঁচাতে হলে সরকারি নিয়মকানুন এবং সামাজিক চাপ—দুটোই দরকার।
এলাকার দেখাদেখি সতর্ক হওয়ার প্রবণতা
আইন ও অর্থনীতির গবেষকরা অনেকদিন ধরেই জানেন যে, যখন কোনো একটি কোম্পানির উপর নিয়ম ভাঙার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন তার দেখাদেখি অন্যরাও সতর্ক হয়ে যায়।
আমেরিকার শিল্প-কারখানার দূষণ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যখন কোনো একটি কারখানার উপর নজরদারি চালানো হয়, তখন সেই একই কাউন্টিতে (আমাদের এখানকার জেলার মতো) থাকা অন্য কারখানাগুলোও প্রায় ৭% দূষণ কমিয়ে ফেলে। আর এটা হয় তাদের উপর সরাসরি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া সত্ত্বেও। এই প্রভাব সেই সব সংস্থার উপর বেশি দেখা যায়, যাদের উপর জরিমানা হওয়ার ঝুঁকি আগে থেকেই বেশি ছিল। দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে এই প্রভাব কমতে থাকে।
আসলে, কাছাকাছি থাকা কোনো কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সেই খবরটা অনেক বেশি জোরালো হয়। কয়েকটা কাউন্টি দূরের ঘটনার চেয়ে নিজের এলাকার ঘটনা অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়, যদিও নিয়মটা একই।
এর মানে হলো, কোম্পানি ম্যানেজারদের শুধু নিজেদের রেকর্ড দেখলেই চলবে না। পাশের কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে, চুপ করে বসে থাকলে চলবে না। কারণ তখন বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সরকারি কর্তৃপক্ষ—সবারই প্রত্যাশা থাকে যে আপনিও সতর্ক হবেন। না হলে কোম্পানির সুনাম নষ্ট হতে পারে, এমনকি নিজেদের উপরেও নজরদারি নেমে আসতে পারে।
নীতি নির্ধারকদের জন্যেও এটা একটা বড় শিক্ষা। শুধু ঘন ঘন ব্যবস্থা নিলেই হবে না। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় সব নজরদারি সীমাবদ্ধ রাখলে অনেক এলাকা 'নিয়ন্ত্রণের মরুভূমি' (regulatory deserts) হয়ে থেকে যায়। সেখানে ভয়ের প্রভাবটা পৌঁছায়ই না। তাই নিয়মকানুন না বাড়িয়েও, শুধু নজরদারিটা গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলেই দূষণ অনেক বেশি কমানো সম্ভব।
এই যুক্তির একটা উল্টো দিকও আছে। যদি স্থানীয় স্তরে নজরদারির কারণে অন্য সংস্থাগুলো সতর্ক হয়, তবে সেই নজরদারির ক্ষমতা কেড়ে নিলে ক্ষতিটাও ব্যাপক হবে। যেমন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'এনডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং' (Endangerment Finding) বাতিল করার প্রস্তাব একটি বড় ঝুঁকি। এই আইনটিই গ্রিনহাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণের জন্য EPA-কে (আমেরিকার পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা) আইনি ক্ষমতা দেয়। এটি বাতিল হলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে যাবে।


