
Zhou Qunfei:চিনের এক হতদরিদ্র গ্রামের মেয়ে থেকে তিনি এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পপতি। ঝৌ ছুনফেইয়ের জীবনকাহিনি সিনেমার চিত্রনাট্যকেও যেন হার মানায়। সম্প্রতি বেজিংয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই অনুষ্ঠানে ঝৌকে দেখা গিয়েছে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক এবং অ্য়াপেলের সিইও টিম-এর মাঝখানে বসে থাকতে। অনেকের মতে, এই দৃশ্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে চীনের উৎপাদনশক্তির প্রতীক।
১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌয়ের। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। কর্মস্থলের দুর্ঘটনায় তাঁর বাবা আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারান। সংসারের চাপে ১৫ বছর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে শেনঝেনে কাজের খোঁজে চলে যান ঝৌ। প্রথম দিকে ঘড়ির কাচ পালিশ করার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দিনের পর দিন কাঁচ ঘষতে ঘষতে হাতে পড়ে যেত কড়া। কিন্তু সেই কাজই তাঁকে কাচ তৈরির সূক্ষ্ম প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দেয়। ঝৌ বুঝতে পারেন, এই কাঁচকে ঠিকমত ব্যবহার করা গেলে একদিন হীরে হয়ে উঠতে পারে।
দেখুন ভিডিও
১৯৯৩ সালে মাত্র ২০ হাজার ইউয়ান (চিনের মুদ্রা) বাঁচিয়ে এবং আত্মীয়দের সামান্য সহায়তায় শেনঝেনের বাওআন জেলায় ছোট একটি ওয়ার্কশপ শুরু করেন তিনি। প্রথমে ঘড়ির কাঁচে স্ক্রিন প্রিন্টিংয়ের কাজ হলেও পরে মোবাইল ফোনের স্ক্রিন তৈরির সম্ভাবনা বুঝতে পারেন ঝৌ। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় লেন্স টেকনোলজি (Lens Technology)।
২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর ভাগ্য বদলে যায় Zhou Qunfei-এর সংস্থার। Apple-এর জন্য টাচস্ক্রিন গ্লাস সরবরাহ করতে শুরু করে ঝৌয়ের 'লেন্স টেকনোলজি'। পরে স্যামসং, টেসলা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠে তারা। বর্তমানে স্মার্টফোন, স্মার্ট কার, রোবোটিক্স ও AI হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রেও কাজ করছে সংস্থাটি। ঝৌ-য়ের কোম্পানির বাজারমূল্য এখন প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।
ঝৌয়ের উত্থানকে অনেকেই আধুনিক চিনের শিল্পবিপ্লবের প্রতিচ্ছবি বলছেন। প্রযুক্তির ঝলমলে দুনিয়ায় যেখানে সফটওয়্যার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়, সেখানে কাচের মতো আপাত সাধারণ উপাদান দিয়েই যে বিশ্বসেরা সাম্রাজ্য গড়া যায়, তা প্রমাণ করেছেন ঝৌ ছুনফেই।