US Iran War: চিন সফর শেষ! আবার কি ইরানে হামলা চালাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? ইঙ্গিত সেটাই

Published : May 16, 2026, 01:29 PM IST
US officials have drawn up plans to restart military strikes against Iran

সংক্ষিপ্ত

শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায়, মার্কিন কর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'। সামরিক সমাধানের লক্ষ্যে এই নতুন তোড়জোড় শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফর শেষ হওয়ার পর।

শান্তি আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায়, মার্কিন কর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'। সামরিক সমাধানের লক্ষ্যে এই নতুন তোড়জোড় শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিন সফর শেষ হওয়ার পর। দুই দিনের এই সফরে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার চলমান সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারীরা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হামলা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এই হামলাগুলো স্থগিত রয়েছে। ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে আসা শান্তি প্রস্তাবগুলো ক্রমাগত প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাঁর যুক্তি হল এই প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো—অর্থাৎ ইরানের কাছে কোনও পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া—পূরণে ব্যর্থ। ওয়াশিংটন ডিসিতে ফিরে আসার পথে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমানে বসে তিনি আবারও তাঁর এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে, নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে একটি কঠিন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই যুদ্ধ ক্রমশ অপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এর আর্থিক বোঝা সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর এসে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যেন তিনি এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছান, যা ইরানকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য করবে এবং ট্রাম্পকে 'বিজয়' ঘোষণার সুযোগ করে দেবে।

'অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০'-এর প্রস্তুতি

ইরানকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র এখনও ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে উঠছে। 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পেন্টাগন আগামী দিনগুলোতে 'অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০' চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই সপ্তাহে কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেন, "প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি আরও জোরদার বা তীব্র করার মতো পরিকল্পনা আমাদের হাতে রয়েছে।" দুজন কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা জানিয়েছেন যে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা পুনরায় শুরুর জন্য জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি আগামী সপ্তাহেই এই হামলা শুরু হতে পারে।

মঙ্গলবার চিন সফরে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, "তারা হয় কোনও চুক্তিতে আসবে, নতুবা তারা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং, যেভাবেই হোক না কেন—শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে থাকা বিকল্পসমূহ

মার্কিন কর্তারা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প যদি হামলা পুনরায় শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে ইরানের সামরিক স্থাপনা এবং পরিকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আরও তীব্র শক্তি প্রয়োগ করে আঘাত হানা হতে পারে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি দিয়েছিলেন—যে হুমকিকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যাপকভাবে নিন্দা জানানো হয়েছিল।

দ্বিতীয় একটি বিকল্প হিসেবে, মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে রাখা পরমাণু উপকরণগুলো খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ঘটনাস্থলে বিশেষ অভিযানকারী সেনা (Special Operations troops) মোতায়েন করা হতে পারে। তবে, এ ধরনের কোনও অভিযান চালাতে হলে হাজার হাজার সহায়ক সেনার প্রয়োজন হবে। যা ইরানি বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এবং ব্যাপক হতাহতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

তৃতীয় একটি বিকল্প হল সেনা মোতায়েন করে 'খার্গ দ্বীপ' (Kharg Island) দখল করা—যা ইরানের তেল রফতানির একটি প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু এই দ্বীপটি নিজেদের দখলে রাখতে হলে স্থলে (ground) আরও অনেক বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির প্রয়োজন হবে; যা সংঘাত এবং এর আনুষঙ্গিক ব্যয়—উভয়কেই ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলবে।

এদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা পুনরায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লিখেছেন, "আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনও আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত। ভুল কৌশল এবং ভুল সিদ্ধান্ত সর্বদা ভুল পরিণতির দিকেই ধাবিত করে।" ইরানের একজন অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া গালিবাফ আরও বলেন, "আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত; তারা (প্রতিপক্ষ) নিশ্চিতভাবেই বিস্মিত হবে।"

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

এবার সন্ত্রাসমুক্ত নাইজেরিয়া? ISIS-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড খতম, মার্কিন সেনার সাফল্যের দাবি ট্রাম্পের
মুখ পুড়লো পাক সেনাপ্রধানের! ভারতের চাপের মুখে আমেরিকার পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান, ফাঁস করলেন ট্রাম্প