
ভূতচতুর্দশী হিন্দুদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন অনেকের কাছেই নরকচতুর্দশী নামেও পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্র মতে এই দিন অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আর সেই কারণেই এই দিন হিন্দুরা বিশেষ করে বাঙালিরা এই দিন বাড়িতে ১৪ প্রদীপ জ্বালায়। ১৪ শাক খায়। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী এই দিন অশুভশক্তির বিনাসের জন্যই দেবী কালিকা চামুণ্ডা রূপে নেমে আসেন মর্তে। তাঁরই সঙ্গে আসেন ভূত আর প্রেতাত্মারা। অনেকেই বলেন, এই বিশেষ দিনে দৈত্যরাজ বলি পৃথিবীতে আসেন পুজো নিতেন। যদিও দৈত্যরাজ হলেও বলির অনেক ভক্ত রয়েছে।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভূতচতুর্দশীর দিন ১৪ শাক খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
ওল শাক
কেঁউ শাক
বেতো শাক (বাস্তুক)
কালকাসুন্দে শাক
সরষে শাক
জয়ন্তী শাক
শালিঞ্চে শাক (হেলঞ্চে)
গুলঞ্চ শাক
পলতা শাক (পটল পাতা)
শুলফা শাক
ঘেঁটু শাক
শুষনি শাক
মূল শাক (মূলোর পাতা)
ব্রাহ্মী শাক (অনেক অঞ্চলে নিম শাকও ব্যবহার করা হয়)
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পেটের নানা সমস্যা দূর করার জন্যই মূলত এই ঐতিহ্যবাহী শাকগুলি একত্রে রান্না করে খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
১৪ প্রদীপের আলোয় বাড়ি আর কর্মক্ষেত্র থেকে অশুভ শক্তি দূর হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এই সময় মাটির প্রদীপে সরর্ষের তেলে প্রদীপ জ্বালতে হয়। প্রদীপের শিখা থাকবে উত্তরমুখী।
চতুর্দশী তিথি আরম্ভ-
বাংলা– ২১ কার্তিক, শনিবার
ইংরেজি– ৭ নভেম্বর, শনিবার
সময়– সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট।
ভূত চতুর্দশী, ১৪ শাক খাওয়া এবং ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর তিথি।
চতুর্দশী তিথি শেষ-
বাংলা– ২২ কার্তিক, রবিবার।
ইংরেজি– ৮ নভেম্বর, রবিবার।
সময়– সকাল ১১টা ২৮ মিনিট।
চতুর্দশী তিথি আরম্ভ-
বাংলা– ২০ কার্তিক, শনিবার।
ইংরেজি– ৭ নভেম্বর, শনিবার।
সময়– সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড।
ভুত চতুর্দশী, ১৪ শাক খাওয়া এবং ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর তিথি।
চতুর্দশী তিথি শেষ-
বাংলা– ২১ কার্তিক, রবিবার।
ইংরেজি– ৮ নভেম্বর, রবিবার।
সময়– সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড।