স্নানযাত্রাতেই খুলবে ভাগ্য! নিয়ম মেনে পুজো করলে জগন্নাথ দেব পূরণ করবেন সব মনস্কামনা, জানুন ২০২৬ এর তিথি

Published : Jun 29, 2026, 03:41 PM IST
puri

সংক্ষিপ্ত

রথযাত্রার ঠিক ১৫ দিন আগে পালিত হয় জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। এই দিন ১০৮ কলসির সুগন্ধি জলে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। বিশ্বাস, এই স্নান দর্শন করলে বা বাড়িতে নিয়ম মেনে পুজো করলে সব পাপ নাশ হয় আর ভাগ্য ফেরে। 

রথের আগে জগন্নাথ দেবের সবচেয়ে বড় উৎসব হল স্নানযাত্রা। পুরাণ মতে, এই দিন স্বয়ং জগন্নাথ রাজবেশ ছেড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে স্নানবেদীতে আসেন। পুরীধামে ১০৮ কলসি সোনার কুয়োর জল, চন্দন, কর্পূর, অগুরু দিয়ে তিন ভাইবোনকে স্নান করানো হয়। স্নানের পর গজবেশ ধারণ করেন প্রভু। বিশ্বাস করা হয়, এই রূপ দর্শন করলে জন্ম-জন্মান্তরের পাপ ক্ষয় হয়ে যায় আর সংসারে সুখ, শান্তি, অর্থ আসে। যারা পুরী যেতে পারেন না, তারা বাড়িতে নিয়ম মেনে পুজো করলেও একই ফল পান।

২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা পড়েছে ২৯ জুন, সোমবার। সোমবার স্নানযাত্রা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে রবিবার রাত ৩টে ৮ মিনিটে। শেষ হচ্ছে সোমবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে রাত ২টো ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে। পূর্ণিমা তিথি শেষ সোমবার ভোর ৪টে ৪৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। এই সময়টাকেই ‘স্নান মুহূর্ত’ বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে জগন্নাথের ছবি বা বিগ্রহকে স্নান করালে সবচেয়ে শুভ ফল মেলে।

বাড়িতে পুজোর নিয়ম খুব সহজ। ভোরে উঠে স্নান করে শুদ্ধ কাপড় পরুন। একটা পিতল বা মাটির ঘটে গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি - এই পঞ্চামৃত বানিয়ে রাখুন। সাথে চন্দন জল, কর্পূরের জল আর কয়েকটা তুলসী পাতা দিন। এবার জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার ছবি বা নারায়ণ শিলাকে একটা পরিষ্কার থালায় বসিয়ে ১০৮ বার না পারলেও ১১ বার মন্ত্র পড়ে স্নান করান। মন্ত্র হল ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ বা ‘জয় জগন্নাথ’। স্নানের পর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছিয়ে নতুন হলুদ কাপড়, ফুলের মালা, তুলসী পরান। ভোগে দিন খাজা, গজা, মালপোয়া, ফল আর তুলসী। তুলসী ছাড়া জগন্নাথ ভোগ নেন না। পুজোর শেষে পরিবারের সবার মঙ্গল কামনা করে আরতি করুন।

শাস্ত্র মতে, স্নানযাত্রার পর প্রভুর জ্বর আসে। তাই ১৫ দিন তিনি ‘অনসর ঘরে’ থাকেন, ভক্তদের দর্শন দেন না। এই ১৫ দিনকে অনবসর কাল বলে। এই সময় বাড়িতেও জগন্নাথকে ভারী ভোগ না দিয়ে ফল, মিছরি, দুধ দেওয়াই নিয়ম। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় নিষ্ঠা করে প্রভুর সেবা করলে, অসুস্থ প্রভুর পথ্য দিলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে রথে চড়ে মাসির বাড়ি যান আর ভক্তের সব দুঃখ কষ্ট দূর করেন।

স্নানযাত্রার দিন কিছু কাজ করলে ভাগ্য খুব দ্রুত ফেরে বলে মানা হয়। ওই দিন সকালে স্নান করে কাউকে না বলে অশ্বত্থ গাছে জল দিন। গরিবকে সাদা বস্ত্র, চাল, চিনি দান করুন। বাড়ির তুলসী মঞ্চে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। যাদের দাম্পত্য কলহ, টাকা আটকে আছে, চাকরি হচ্ছে না, তারা ওই দিন জগন্নাথের সামনে বসে ১০৮ বার ‘ক্লীং কৃষ্ণায় নমঃ’ জপ করুন। অনেকে এই দিন বাড়িতে সত্যনারায়ণ পুজোও করেন।

মনে রাখবেন, বিশ্বাস আর ভক্তিই আসল। নিয়মের চেয়ে মনের শুদ্ধতায় বেশি খুশি হন জগন্নাথ। স্নানযাত্রার দিন মিথ্যে কথা, আমিষ খাওয়া, চুল-নখ কাটা এড়িয়ে চলুন। সারাদিন ‘জয় জগন্নাথ’ নাম জপ করুন। প্রভু নিশ্চয়ই আপনার ডাক শুনবেন আর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেবেন।

PREV
Religion News (ধর্মের খবর): Read latest news and updates on religion in bengali , Spiritual News, Puja Vratham, Fasting Rule. Find Bengali Religious News, Spiritual News on Asianet Bangla News.
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

টাকা আটকে যাচ্ছে, কাজে বাধা? হাতের তালুতে এক চিমটি লবণেই কাটবে নজরদোষ, বলছে বাস্তু
Baba Vanga Prediction: বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী! আগামী ৭ দিনে ৫ রাশির কপাল খুলবে, হাতে আসবে টাকা