শাস্ত্র বলছে রাস্তায় পড়ে থাকা কিছু জিনিস ডিঙোলেই মা লক্ষ্মী অখুশি হন। কোন ৩টি জিনিস ভুলেও টপকাবেন না আর কেন, জেনে নিন। শুক্রবার আর পূর্ণিমার দিন এই নিয়ম মানা খুব জরুরি। কারণ জ্যোতিষ আর শাস্ত্র মতে এই জিনিসগুলোর সাথে মা লক্ষ্মীর যোগ আছে।
আমাদের বাড়ির বড়রা ছোটবেলা থেকে একটা কথা বলতেন - "রাস্তায় হাঁটার সময় চোখ-কান খোলা রাখবি"। শুধু গাড়ি নয়, রাস্তায় পড়ে থাকা কিছু জিনিসও নাকি ডিঙোতে নেই।
বিশেষ করে শুক্রবার আর পূর্ণিমার দিন এই নিয়ম মানা খুব জরুরি। কারণ জ্যোতিষ আর শাস্ত্র মতে এই জিনিসগুলোর সাথে মা লক্ষ্মীর যোগ আছে। আপনি না জেনে টপকে গেলেই সংসারে অশান্তি আর অর্থাভাব আসতে পারে।
*হলুদ রঙের কোনো জিনিস*:
হলুদ রং সরাসরি মা লক্ষ্মী আর গুরু বৃহস্পতির সাথে জড়িত। রাস্তায় যদি হলুদ ফুল, হলুদের গুঁড়ো, বা হলুদ কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন, ভুলেও পা দিয়ে ডিঙোবেন না। মনে করা হয় এটা করলে গুর অসম্মান হয় আর মা লক্ষ্মী রেগে যান। বরং সেটা তুলে একপাশে রেখে দিন বা নমস্কার করে চলে যান। বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকবে।
*চাল, কড়ি আর পয়সা*:
অনেক সময় পুজোর পর প্রসাদী চাল, কড়ি বা পয়সা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এগুলো মা লক্ষ্মীর প্রতীক। শাস্ত্র বলছে এগুলো ডিঙিয়ে গেলে মা মনে করেন আপনি তার দেওয়া ধনকে অসম্মান করছেন। এর ফলে আপনার নিজের ঘরেই টাকা আটকে যেতে পারে। ইনকাম থাকলেও সেভিংস হবে না। তাই রাস্তায় পয়সা দেখলে তুলে কোনো গরিবকে দিয়ে দিন বা মন্দিরে দান করুন।
*নারকেল আর সিঁদুর*:
নারকেল হল শুভতার প্রতীক আর সিঁদুর মা লক্ষ্মী ও মা দুর্গার খুব প্রিয়। কোনো পুজো থেকে ফেরার সময় এগুলো যদি রাস্তায় পড়ে থাকে, তাহলে সেটা টপকানো মহা অশুভ। এতে সংসারে অশান্তি আসে। মনে করা হয় নারকেল ফেটে গেলে তাতে নেগেটিভ এনার্জি থাকে। তাই দেখলে সেটা এড়িয়ে যান বা হাত জোড় করে প্রণাম করে পাশ দিয়ে চলে যান।
*তাহলে কী করবেন?*
শাস্ত্র বলছে কোনো শুভ জিনিস রাস্তায় পড়ে থাকলে তাকে অসম্মান করা উচিত নয়। যদি সম্ভব হয়, জিনিসটা তুলে পরিষ্কার জায়গায় রেখে দিন। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে মনে মনে মা লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যান। রাগ বা বিরক্তি দেখাবেন না।
এগুলো কুসংস্কার নাকি বিশ্বাস, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু বড়দের কথা মানলে ক্ষতি তো নেই। ছোট ছোট নিয়ম মানলেই সংসারে শান্তি আর মা লক্ষ্মীর কৃপা বজায় থাকে।


