
Anduri Festival Uttarakhand: মাটি থেকে ১০ হাজার ফুট উপরে রঙ নয়, মাখনের হোলি খেলা। হোলি মানেই আনন্দের রঙ। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে হোলি খেলা হয় সাদা মাখন আর দই দিয়ে। নাম তার ‘অন্দুরি উৎসব’ বা ‘মাখন হোলি’। উত্তরকাশী জেলার ছোট্ট রায়থল গ্রামের মানুষ প্রতি বছর অগাস্ট মাসে ফসল কাটার আনন্দে এই উৎসব পালন করে। উৎসবের জায়গা আরও স্পেশাল, দায়রা বুগিয়াল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট উঁচুতে সবুজ গালিচার মতো বিছানো তৃণভূমি। চারপাশে বরফে ঢাকা পাহাড়, মাঝে লোকসংগীত আর ঢোলের আওয়াজ।
স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান কৃষ্ণ মাখন চোর ছিলেন। ফসল ভালো হওয়ার জন্য কৃষকরা কৃষ্ণের কাছে কৃতজ্ঞতা জানায়। তাই ফসলের প্রথম ফলন থেকে বানানো মাখন, দই আর ঘি দিয়ে একে অপরকে মাখিয়ে উৎসব করে। এটা শুধু খেলা নয়, এটা প্রার্থনা। বিশ্বাস করা হয় মাখন গায়ে মাখলে সারা বছর সুখ-সমৃদ্ধি থাকে আর ফসলের কোনও ক্ষতি হয় না।
১. লোকনৃত্য আর গান: পুরুষরা ‘রাসো’ আর মহিলারা ‘বারাদি’ নাচেন। হাতে ডামাউন-মসকবীন বাজে।
২. মাখন যুদ্ধ: যুবক-যুবতীরা দলে ভাগ হয়ে একে অপরের গায়ে মাখন-দই ছুড়ে দেয়। গাছ, পাথর, মানুষ, কেউ বাদ যায় না।
৩. ভাণ্ডারা আর মেলা: বুগিয়ালে দিনভর খিচুড়ি, পাহাড়ি রুটি আর চা চলে। আশেপাশের ১০-১২টা গ্রামের মানুষ এখানে জড়ো হয়।
আগাস্টের ঠান্ডা হাওয়ায় সারা গায়ে মাখন মেখে যখন সবাই হাসে-গায়, মনে হয় স্বর্গ নেমে এসেছে পাহাড়ে।
কীভাবে যাবেন?
নিকটতম শহর: উত্তরকাশী থেকে রায়থল গ্রাম আট কিমি। সেখান থেকে তিন-চার ঘন্টার ট্রেক করে দায়রা বুগিয়াল।
সেরা সময়: প্রতি বছর আগাস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ। তবে যাওয়ার আগে স্থানীয় পঞ্চায়েতের সঙ্গে তারিখ কনফার্ম করে নিন।
ভারতের বৈচিত্র্য এমনই। যেখানে একদিকে রঙের হোলি, সেখানে আরেকদিকে মাখনের হোলি। যদি পাহাড়, সংস্কৃতি আর মানুষের উচ্ছ্বাস একসঙ্গে দেখতে চান, তাহলে একবার অন্দুরি উৎসবে যেতেই হবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।