
পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধের ভোজে যাকে-তাকে নিমন্ত্রণ করলেই পিতৃদোষ লাগে। গরুড় পুরাণ ও মনুস্মৃতি অনুসারে ডাক্তার, বন্ধু, অযোগ্য ব্রাহ্মণ সহ কিছু ব্যক্তিকে শ্রাদ্ধে ভোজন করানো অশাস্ত্রীয়। কাদের ভুলেও ডাকবেন না, জানুন।
পিতৃপক্ষ চলছে। এই ১৫ দিন পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য আমরা শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও ব্রাহ্মণ ভোজ করাই। কিন্তু জানেন কি, শ্রাদ্ধের ভোজে যাকে-তাকে বসালে শ্রাদ্ধের ফল তো মেলেই না, উল্টে পিতৃপুরুষরা রুষ্ট হন? গরুড় পুরাণ, মনুস্মৃতি ও ধর্মসিন্ধু গ্রন্থে স্পষ্ট বলা আছে, শ্রাদ্ধের অন্ন অত্যন্ত পবিত্র, তাই ভোক্তা নির্বাচনেও কঠোর নিয়ম আছে।
অনেকে আবেগের বশে বন্ধু, পরিচিত ডাক্তার বা যে কোনও ব্রাহ্মণকে ডেকে ফেলেন, যা সম্পূর্ণ অশাস্ত্রীয়।
১. অযোগ্য ব্রাহ্মণ: সব ব্রাহ্মণ শ্রাদ্ধের অন্ন গ্রহণের যোগ্য নন। যিনি সন্ধ্যা-আহ্নিক করেন না, বেদ পাঠ করেন না, মদ্যপান করেন, সুদখোর, নাস্তিক বা সারাদিন শুধু অর্থের পিছনে ছোটেন - এমন ব্রাহ্মণকে শ্রাদ্ধে খাওয়ালে শ্রাদ্ধ নিষ্ফল হয়। শ্রাদ্ধের জন্য সদাচারী, জিতেন্দ্রিয়, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণই শ্রেষ্ঠ।
২. বন্ধু ও আত্মীয়কে: শাস্ত্রে বলা হয়েছে - শ্রাদ্ধে মিত্রতাকে প্রাধান্য দিতে নেই। বন্ধু, খুব ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা যাঁর সঙ্গে আপনার লেনদেন আছে, তাঁকে শ্রাদ্ধে ব্রাহ্মণ হিসেবে বসালে তিনি পিতৃরূপে নয়, বন্ধু রূপে খান। তাই ফল পিতৃলোকে পৌঁছায় না।
৩. ডাক্তার / চিকিৎসক: এটা শুনে অবাক লাগলেও শাস্ত্রে চিকিৎসককে শ্রাদ্ধে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ প্রাচীনকালে বলা হত, চিকিৎসক সর্বদা রোগ, রক্ত, মৃত্যুর সংস্পর্শে থাকেন, তাই তাঁর মধ্যে রাজসিক ও তামসিক গুণ বেশি। তাই শ্রাদ্ধের মতো অতি সাত্ত্বিক কাজে তাঁকে বর্জন করতে বলা হয়েছে। (এর অর্থ ডাক্তারকে অসম্মান নয়, এটি একটি শাস্ত্রীয় বিধি)
৪. আরও যাদের বর্জন করবেন: নখ দিয়ে চুলকায় এমন ব্যক্তি, অতিরিক্ত কালো দাঁত যার, নাস্তিক, পুনর্বিবাহিতা নারীর স্বামী, বেতনভুক্ত পুরোহিত যে সব জায়গায় যজমানি করে, এবং পতিত ব্যক্তি।
এমন ব্রাহ্মণকে ডাকুন যিনি শান্ত, পবিত্র, ত্রিসন্ধ্যা করেন, লোভহীন এবং যাঁকে দেখলে মনে শ্রদ্ধা জাগে। যদি এমন ব্রাহ্মণ না পান, তবে গরুড় পুরাণ বলছে - গরীব, সৎ, ভক্ত মানুষকে খাওয়ালেও পিতৃপুরুষরা তৃপ্ত হন। শ্রাদ্ধ মানে লোক দেখানো ভোজ নয়, শ্রদ্ধার সঙ্গে পিতৃপুরুষকে তৃপ্ত করা। তাই ভোজের লোক নির্বাচনে সতর্ক থাকুন।