হিন্দু ধর্মে প্রতিটি পূর্ণিমার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। তবে মাঘ মাসের পূর্ণিমা, অর্থাৎ মাঘী পূর্ণিমা, বিশেষভাবে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, জ্যোতিষ এবং লোকাচারের দিক থেকে এই দিনটির মাহাত্ম্য বহু প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত।
28
মাঘী পূর্ণিমা মূলত মাঘ মাসের শেষ পূর্ণিমা। এই সময় সূর্য মকর রাশিতে অবস্থান করে এবং শাস্ত্র মতে এটি দেবতাদের প্রিয় কাল। বিশ্বাস করা হয়, মাঘ মাসে স্নান, দান ও সাধনা করলে তার ফল বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আর মাঘী পূর্ণিমার দিনে সেই পুণ্যের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
38
এই দিনে ভোরে গঙ্গা, যমুনা বা অন্য পবিত্র নদীতে স্নান করার প্রথা রয়েছে। যাঁরা নদীতে যেতে পারেন না, তাঁরা বাড়িতে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করেন। শাস্ত্র মতে, এই স্নানে পাপক্ষয় হয় এবং মন ও শরীর শুদ্ধ হয়।
মাঘী পূর্ণিমায় দান করার বিশেষ গুরুত্ব আছে। অন্ন, বস্ত্র, তিল, গুড়, চাল, ডাল বা অর্থ দান করলে জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস। বহু মানুষ এই দিন ব্রাহ্মণভোজন ও গরিবদের খাদ্য দান করেন।
58
জ্যোতিষ মতে, মাঘী পূর্ণিমার চাঁদের আলো মানসিক শান্তি দেয়। এই দিন উপবাস, জপ ও ধ্যান করলে মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পায়। অনেকেই সত্যনারায়ণ পুজো বা বিষ্ণুপুজো করেন।
68
মাঘী পূর্ণিমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কুম্ভ মেলার ঐতিহ্যও। কুম্ভ চলাকালীন মাঘী পূর্ণিমার দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই স্নানে জন্মজন্মান্তরের দুঃখ ও ক্লেশ দূর হয়।
78
শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক দিক থেকেও এই দিনের গুরুত্ব আছে। পরিবারে মিলন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং মানসিক শুদ্ধতার অনুভূতি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
88
সব মিলিয়ে, মাঘী পূর্ণিমা এমন একটি দিন, যেখানে ধর্ম, সংস্কৃতি ও আত্মশুদ্ধির ভাবনা একসূত্রে বাঁধা। এই দিন মানুষ নিজের ভিতরের অশান্তি দূর করে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পায়। তাই মাঘী পূর্ণিমা শুধু একটি তিথি নয়, বরং বিশ্বাস ও মানসিক শান্তির এক বিশেষ উপলক্ষ।