রথযাত্রা হলো হিন্দু ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথে চড়ে গুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে, তেমনি বিশেষ গুরুত্ব পায় জগন্নাথদেবের ‘ছাপ্পান্ন ভোগ’ বা ৫৬ ভোগ নিবেদন। কিন্তু কেন ৫৬ ধরনের ভোগই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে রয়েছে কী কারণ?
25
জগন্নাথদেবের ৫৬ ভোগের পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় বিশ্বাস
জানা গিয়েছে, জগন্নাথদেবকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করার পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় বিশ্বাস। কথিত আছে- শ্রীকৃষ্ণ ছোটবেলায় প্রতিদিন আটবার আহার করতেন। কিন্তু গোবর্ধন পর্বত ধারণ করার সময় তিনি টানা সাত দিন সাত রাত কোনও খাদ্য গ্রহণ করেননি। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, সেই সাত দিনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁকে নিবেদন করা হয় ৭ × ৮ = ৫৬ প্রকারের খাদ্য। জগন্নাথদেবকে শ্রীকৃষ্ণেরই এক রূপ হিসেবে মানা হয়। তাই তাঁকেও ৫৬ ভোগ নিবেদন করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে আজও।
35
রথযাত্রার সঙ্গে ৫৬ ভোগের সম্পর্ক আসলে কী রকম?
পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার সময় জগন্নাথদেব মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে অবস্থান করেন। এই সময় ভক্তরা বিশেষ ভক্তিভরে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি, পিঠা, ভাত, ডাল, তরকারি, ফল, ক্ষীর, লাড্ডু, পায়েস ও নানা সুস্বাদু নিরামিষ খাদ্য নিবেদন করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই ভোগ নিবেদন করলে ভগবানের আশীর্বাদ লাভ হয় এবং সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। এমনকি জগন্নাথদেবের এই প্রসাদ মহাপ্রসাদ নামেও খ্যাত।
রথযাত্রা উপলক্ষে জগন্নাথ দেবকে যে ৫৬ ভোগ দেওয়া হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সুগন্ধি ভাত, ঘি ভাত, খিচুড়ি, ডাল, বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি, দই, ক্ষীর, পায়েস ও ছানার মিষ্টি।
55
পুরীর মন্দিরে কী নিবেদন করা হয়?
এছাড়াও জগন্নাথ দেবের ৫৬ ভোগের মধ্যে থাকে লাড্ডু, মালপোয়া, খাজা, গজা, রসাবলী, পিঠা, নানা ধরনের ফল মাখন ও মিছরি। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রতিদিনই বহু প্রকারের ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে রথযাত্রা ও অন্যান্য বিশেষ উৎসবে এই ভোগের আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ হয়।
Religion News (ধর্মের খবর): Read latest news and updates on religion in bengali , Spiritual News, Puja Vratham, Fasting Rule. Find Bengali Religious News, Spiritual News on Asianet Bangla News.