
Jharkhand News: আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। চারবার সোনা জিতেছেন। অথচ এই সফল ক্রীড়াবিদকেই এখন সংসার চালানোর জন্য রাস্তার ধারে বসে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে, ক্যাব চালাতে হচ্ছে। এই দুঃখজনক ঘটনা দেখা যাচ্ছে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে (Ranchi)। ২৯ বছরের থ্রো-বল খেলোয়াড় অমরদীপ কুমার (Amardeep Kumar) সরকারি চাকরি পাননি। এর কারণ ঝাড়খণ্ড সরকারের ক্রীড়ানীতি। চাকরি না পাওয়ায় এই খেলোয়াড়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাঁচির আরগোড়া চকে সবজি বিক্রি করছেন। বাড়তি আয়ের জন্য ক্যাবও চালাচ্ছেন।
অমরদীপ জানিয়েছেন, ছত্তীশগড় (Chhattisgarh), হরিয়ানা (Haryana) ও বিহারে (Bihar) তাঁর একাধিক সতীর্থ ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরি পেয়েছেন। তাঁর সঙ্গে খেলা এবং একসময় তাঁর অধিনায়কত্ব করা হরিয়ানার এক খেলোয়াড়ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। অথচ তাঁর নিজের নগদ পুরস্কার এবং সরকারি চাকরির আবেদন এখনও মঞ্জুর হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে তিনি সরকারি পুরস্কার বা আর্থিক সহায়তার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হচ্ছেন। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী হাফিজুল হাসানের (Jharkhand Sports Minister Hafizul Hasan) সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ২০২০ সাল থেকে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা শুরু করেন তিনি। তবে কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ২০২২ সালে ফের চাকরির চেষ্টা শুরু করেন অমরদীপ। এরপর থেকে নিয়মিতভাবেই সরকারি চাকরির জন্য আবেদন ও যোগাযোগ করে চলেছেন তিনি। সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে আর্থিক সমস্যার মুখেও পড়তে হয়েছে এই খেলোয়াড়কে। বিদেশে খেলতে যাওয়ার জন্য তাঁকে ধার পর্যন্ত করতে হয়েছে। মালয়েশিয়ায় (Malaysia) একটি প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে যাওয়ার জন্য প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ধার করেছিলেন অমরদীপ। পরিবারের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থ্রো-বল অ্যাসোসিয়েশনও তাঁকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে। মোট খরচের প্রায় অর্ধেক বহন করেছিল সংগঠনটি।
আন্তর্জাতিক স্তরে অমরদীপের সাফল্যের তালিকা যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান জুনিয়র থ্রো-বল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম আন্তর্জাতিক সোনা জেতেন তিনি। এরপর ২০১৭ সালে কাঠমান্ডুতে ইন্দো-নেপাল থ্রো-বল চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা পান। ২০১৯ সালে বেঙ্গালুরুতে দক্ষিণ এশীয় থ্রো-বল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০২৬ সালে রাঁচিতে একই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সংস্করণেও সোনা জেতেন তিনি। অমরদীপ জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারে রয়েছেন বাবা-মা এবং দাদা। বাবা সবজি বিক্রি করেন। সেই ব্যবসায় বাবাকে সাহায্য করেন তিনি। তাঁর মা গৃহবধূ হলেও বাড়ি বাড়ি সবজি বিক্রি করেন। প্রায় ৩৫ কেজি সবজি মাথায় নিয়ে তাঁকে ঘুরতে হয়। দাদা একটি ফাস্ট-ফুডের দোকান চালান। নিজের খেলার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে অমরদীপকে। রাত পর্যন্ত ক্যাব চালানোর কারণে পরের দিন সকালে অনুশীলনে যেতেও সমস্যা হয়। তবু লড়াই থামাতে রাজি নন তিনি। অক্টোবরের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) একটি প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও খেলা ছাড়ার কোনও ইচ্ছা নেই অমরদীপের।
অমরদীপের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর ঝাড়খণ্ড সরকারের টনক নড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Jharkhand Chief Minister Hemant Soren) বিষয়টি নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ক্রীড়া দফতরকে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী সুদিব্য সোনু (Sudivya Sonu) জানিয়েছেন, বর্তমান ক্রীড়ানীতির আওতায় অমরদীপকে কীভাবে চাকরি দেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁর জন্য অন্য কোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।