Asian Para Games 2026 Medal Update: এশিয়ান প্যারা গেমসে পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টে রুপো পেলেও, লেন ভাঙার অভিযোগে সেই পদক খোয়ালেন ভাবিককুমার ভরওয়াড় (Bhavikkumar Bharwad)। তাঁর ফল বাতিল করা হয়েছে। ভাবিককুমার রুপো হারালেও, এই ইভেন্টে সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন দিলীপ মহাদু গাভিট (Dilip Mahadu Gavit)। জাপানের (Japan) নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে (Nagoya City Mizuho Park Athletic Stadium) অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে গাভিট ও ভাবিককুমার একসঙ্গে পদক জেতেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত শুধু সোনাই পেল ভারত। ৪০০ মিটার টি৪৭ ফাইনালে ৪৮.২৭ সেকেন্ড সময় করে সোনা জেতেন গাভিট। ৪৯.৩১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন ভাবিককুমার। কিন্তু দ্বিতীয় লেনে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে প্রতিবাদ জমা পড়ার পর তাঁকে বাতিল করা হয়। ফলে জাপানের কাকেরু ইশিদা রুপো পান। তিনি প্রথমে ৪৯.৫৮ সেকেন্ড সময় করে তৃতীয় হয়েছিলেন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ৫০.০৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে যুগ্মভাবে ব্রোঞ্জ জেতেন উজবেকিস্তানের মারুফজন মুরোদুল্লোয়েভ ও শ্রীলঙ্কার সামান সুবাসিংহে।
চলতি এশিয়ান প্যারা গেমসে বেশ কয়েকটি ইভেন্টে একাধিক পদক জিতেছে ভারত। পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টেও জোড়া পদক এসেছিল। কিন্তু ভাবিককুমার বাতিল হওয়ায় এই ইভেন্টে ভারতীয়দের জোড়া পদক জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হল। তবে গাভিটের সোনা দেশের পদক সংখ্যা বৃদ্ধি করল। চলতি গেমসে দ্বিতীয় সোনা জিতলেন এই প্যারা অ্যাথলিট। এর আগে বুধবার পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে ১০.৬৯ সেকেন্ড সময় করে সোনা জেতেন তিনি। এই ইভেন্টে ১০.৭২ সেকেন্ড সময় করে রুপো পান ভারতের বাসিল। তাঁর এই পারফরম্যান্সে নতুন গেমস রেকর্ডও তৈরি হয়।
পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টে গাভিটের সোনা জয় অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসেও এই ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন তিনি। সেবার তাঁর সময় ছিল ৪৯.৪৮ সেকেন্ড। নাগোয়ায় ৪৮.২৭ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে নিজের আগের সময়ের চেয়ে এক সেকেন্ডেরও বেশি উন্নতি করলেন এই ভারতীয় স্প্রিন্টার। ২০২২ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে গাভিটের সোনা ছিল ভারতের ঐতিহাসিক শততম পদক। এর পর ২০২৪ সালের প্যারিস প্যারালিম্পিক্সেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। সেখানে পুরুষদের ৪০০ মিটার টি৪৭ ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। মহারাষ্ট্রের নাসিকের কাছে তোরণ ডোঙ্গারি নামে একটি ছোট গ্রামে জন্ম গাভিটের। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন। মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে গাছ থেকে পড়ে ডান হাতে গুরুতর চোট পান তিনি। সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় হাতে গ্যাংগ্রিন সংক্রমণ দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত কনুইয়ের নীচ থেকে তাঁর ডান হাত বাদ দিতে হয়। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর দৌড়ের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। গ্রামের ধুলোমাখা রাস্তাতেই দৌড়ের অনুশীলন শুরু করেন গাভিট। সেখানেই তাঁর প্রতিভা নজরে আসে কোচ বৈজনাথ কালের। তাঁর তত্ত্বাবধানে পেশাদার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে প্রবেশ করেন গাভিত এবং ধীরে ধীরে নিজেকে দক্ষ স্প্রিন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।