
টি-২০ বিশ্বকাপ বয়কটের ঘোষণা বাংলাদেশের, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ আইসিসির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কট তৈরি করেছে, যা টুর্নামেন্টের সময়সূচি এবং এশিয়ান দলগুলির অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেছেন তিনি।
নজরুল বলেন, ‘আইসিসি আমাদের ন্যায়বিচার করেনি। বিষয়টি ক্রিকেটীয় প্রতিশ্রুতির বাইরেও বিস্তৃত। আমরা মাথা নত করব না। বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলে তাহলে এর অর্থ কী তা সকলের বোঝা উচিত। আমরা কোনও পরিস্থিতিতেই আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ছেড়ে দিতে পারি না।’ ক্রীড়া উপদেষ্টার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এই পুরো বিতর্ক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উপর ছায়া ফেলছে বলে মনে হচ্ছে। সকলের নজর এখন আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই দ্বন্দ্বের সমাধানের দিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়সূচি অনুসারে, বাংলাদেশকে গ্রুপ সি-তে রাখা হয়েছিল। তাদের প্রথম তিনটি ম্যাচ কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলার কথা ছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এখন আইসিসির সম্ভাব্য পুনর্বিবেচনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যদিও তাতে কোনও লাভ হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশকে শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে। আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে। আজকের সিদ্ধান্তের পরে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ সমস্ত পরিণতির জন্য প্রস্তুত। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনে সম্মত না হলে বাংলাদেশ ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সম্ভাবনা আর কাল্পনিক নয়, বরং বাস্তব। কারণ, আগেই জানা গিয়েছিল যে বাংলাদেশ না খেললে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কেন ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিল?
সাম্প্রতিক সময়ে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের কারণে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব পরে ক্রিকেটেও দেখা গেছে। এর পরে, কলকাতা নাইট রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজি মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেয় এবং তাঁর চুক্তি বাতিল করে। এর পরে, বাংলাদেশ আইপিএল সম্প্রচারও নিষিদ্ধ করে। পরে, তারা শ্রীলঙ্কায় তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি আয়োজনের দাবি করে, যা আইসিসি মানেনি। ২১ জানুয়ারি আইসিসি-র ভোটে হারের পর বিসিবি সভাপতি বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে দেখা করেন। ২৩ জানুয়ারি আসিফ নজরুল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। এই বৈঠকে খেলোয়াড়দের মতামত নেওয়া হয়, যার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে তারা ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না।