
Australian All-rounder Glenn Maxwell: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। চলতি বছরের টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC Men's T20 World Cup 2026) আগে ও পরে দু'পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা চলে। তবে অবসর নিয়ে তাঁর উপর কোনওরকম চাপ তৈরি করেনি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ম্যানেজমেন্ট। সম্প্রতি 'দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড' পডকাস্টে এমনটাই জানিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সি এই তারকা অলরাউন্ডার। একইসঙ্গে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (Melbourne Cricket Ground) একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার ক্ষীণ আশাও যে তাঁর ছিল, তা স্বীকার করেছেন ম্যাক্সওয়েল।
ম্যাক্সওয়েলের কথায়, অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতের দল গড়ার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। পরবর্তী সিরিজগুলিতে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার দিকেই নজর ছিল নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সফরের উদাহরণও দিয়েছেন তিনি। সেখানে বেশ কয়েকজন উঠতি ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ভালো পারফরম্যান্সও করেছিলেন। এমসিজি-তে দেশের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামার একটা ছোট আশা অবশ্য মনে মনে পোষণ করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তবে অস্ট্রেলিয়া যে ভবিষ্যতের কথা ভেবে তরুণদের সুযোগ দিতে চাইছে, সেই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সম্মান জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সের (LA 2028 Olympics) কথা মাথায় রেখে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাক্সওয়েলের মতে, তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ বিগ ব্যাশ লিগের (Big Bash League) মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলে সবসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব নয়। পডকাস্টে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপের আগে ও পরে আমাদের বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছিল। বিষয়টি খোলামেলাই ছিল। অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে কোনও চাপ ছিল না। তাই আমরা বিষয়টি খোলা রেখেছিলাম। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল। ওরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের সফরেও আমরা সেটা দেখেছি। বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছে এবং দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।’ তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয়, এমসিজি-তে একটা বিদায়ী ম্যাচ খেলার ক্ষীণ আশা বা আলোচনা ছিল। তবে এই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওরা যে পথে এগোতে চাইছে, তা আমি সম্পূর্ণ বুঝতে পারছি। ২০২৮ সালের অলিম্পিক্সের আগে আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে অনেক পরিবর্তন আসবে। তাই নতুন উঠে আসা ক্রিকেটারদের দেখে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো জরুরি। বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতা থেকে সবসময় সেই অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় না।'
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৪ বছরের কেরিয়ারের ইতি টেনেছেন ম্যাক্সওয়েল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৪৯টি ওডিআই, ১৩০টি টি-২০ আন্তর্জাতিক এবং সাতটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। জিতেছেন ২০১৫ ও ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ এবং ২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ। এ বছরের টি-২০ বিশ্বকাপে ওমানের (Oman) বিরুদ্ধে ম্যাচটিই ছিল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। সেই ম্যাচে বল হাতে দু'টি উইকেট পেলেও ব্যাট করার সুযোগ পাননি তিনি। ফলে এমসিজি-তে বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল এই তারকা অলরাউন্ডারের।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।