East Bengal: কারও চোখে জল, আবার কেউ আনন্দে দিশেহারা। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা। ২১ মে, নিঃসন্দেহে স্মরণীয় দিন লাল হলুদ জনতার জন্য। জাতীয় লিগ স্তরের প্রতিযোগিতায় ফের সাফল্য (east bengal)। অপেক্ষা অবসান। আইএসএল জিতল ইস্টবেঙ্গল। তারপরেই বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন সমর্থকরা (east bengal fc)।
প্রথমে পিছিয়ে পড়া এবং তারপর ফিরে আসা। এই লড়াই যেন চিরন্তন। পরাজয় নয়! বরং, রাজার মতোই কামব্যাক। সত্যিই তো তাই। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার, যখন ইস্টবেঙ্গলের ইউসুফ এজ্জেজারি গোলটি শোধ করলেন, তখন গোটা গ্যালারি জুড়ে লাল হলুদ গর্জন। খেলায় ফিরল ইস্টবেঙ্গল। যেন বিরাট কোনও ঝড়ের পূর্বাভাস। আক্ষরিক অর্থেই সেটা হল। খেলার ৭২ মিনিট চলছে তখন। মহম্মদ রশিদের গোল! বল জালে জড়াতেই রশিদ সোজা ছুটে গেলেন গ্যালারির দিকে।
সেই উত্তেজনা! শিহরণ জাগানো মুহূর্ত, ইস্টবেঙ্গল তখন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এবারের ট্রফি তাদেরই। রেফারি যখন ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন, তখন আর ধরে রাখা গেল না লাল হলুদ জনতাকে। কার্যত, লাল হলুদ আবেগের বিস্ফোরণ! ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ জিতল ২-১ গোলে।
কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যেন তখন কার্যত, লাল হলুদ চাদরে মোড়া। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে শুধু কালো মাথার ভিড়। আমাদের ক্যামেরার লেন্স তখন চারিদিকে ফোকাস নিচ্ছে। কেউ হাতে নিয়ে আছেন লাল হলুদ পতাকা, আবার কারও গায়ে জার্সি। অনেকে মাঠের মধ্যেই শুয়ে পড়েছেন। কেউ আবার তাঁর ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে নিয়ে মাঠে আসেন, ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবেন বলে। কেউ শুধু দৌড়চ্ছেন।
দক্ষিণ কোলকাতার কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যেন নয়া ইতিহাস রচনা হল। আনন্দে মাতলেন ৮ থেকে ৮০ সকলেই। অনেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক তো মাঠের মধ্যে শুধু জড়িয়ে ধরছেন একে অপরকে। এমন একটা দিনের অপেক্ষাতেই যেন তারা ছিলেন। এমনকি, বাদ্যযন্ত্রের তালে শুরু হয়ে গেল নাচ। গেটের বাইরেও তখন লাল হলুদ সমর্থকরা নাচে ব্যস্ত।
এক সমর্থক জানালেন, “শুধু এই দিনটা দেখব বলেই ছুটে আসা। আমরা চ্যাম্পিয়ন।" কার্যত, লাল হলুদ জনতার দখলে চলে যায় গোটা কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং সংলগ্ন এলাকা। ফুটবলার, কোচ এবং কোচিং স্টাফরাও নিজেদের ধরে রাখতে পারছিলেন না। ড্রেসিংরুমের মধ্যে তখন তুমুল সেলিব্রেশন। এই সবকিছুর মাঝেই এশিয়ানেট নিউজ বাংলা পৌঁছে গেল লাল হলুদের অন্দরে।
আইএসএল জয়ী ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে জানালেন, “চলো, চলতে থাকুক। এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এটাই ইস্টবেঙ্গলের গল্প। সমর্থকরাই আমাদের প্রধান শক্তি। এই জয়টা তাদের প্রাপ্য। কারণ, তারা জানত যে, আমরা পারব। এনার্জি ধরে রাখলে সব সম্ভব। জয় ইস্টবেঙ্গল।"
লাল হলুদের হয়ে ম্যাচ উইনিং গোল স্কোরার মহম্মদ রশিদ এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে বললেন, “এটাই আমাদের কেমিস্ট্রি। যেটা দেখছেন। আমরা মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে, বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে এবং এই ম্যাচটা। সবকটি ক্ষেত্রেই আমরা একটু ধীরে শুরু করেছি। কিন্তু পরে কামব্যাক করেছি এবং জয় ছিনিয়ে এনেছি। এটা অনেক বড় ব্যাপার। ইস্টবেঙ্গল এই মানসিকতা নিয়েই চলে। শুধু লাল হলুদ সমর্থকদের দেখুন। সবাই ভীষণ খুশি এবং সবাই আনন্দ করছে। আমার সত্যিই ইচ্ছে করছে, ওদের সঙ্গে গিয়ে আনন্দ করতে। ইস যদি পারতাম! সত্যিই আমরা সবাই খুশি এই জয়ের জন্য। তাই আনন্দ চলছে। ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এটা ডিসার্ভ করে।"
গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদার ছেলে এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে জানালেন, “এটা একটা আলাদা ফিলিং। কারণ, ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে একটা ট্রফির জন্য। অনেকের মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। জয় ইস্টবেঙ্গল।"
সহকারী কোচ বিনো জর্জ এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকারে বলে গেলেন, “এটা একটা অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত। দেখুন, এটা আমার ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে চতুর্থ মরশুম। শেষপর্যন্ত, আমরা জিততে পেরেছি ট্রফিটা। তাই আমি দারুণ খুশি। আমাদের দলের প্রতিটা ফুটবলার দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে, তাদের সঠিক দায়িত্বটা ঠিক কী কী? সেটা তারা খুব ভালোভাবেই জানত। ওরা সবটা করেছে। ধন্যবাদ।"
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।