ইস্টবেঙ্গলের ২০২৬ ডুরান্ড কাপ জয়ের পিছনে কাজ করেছে কোন ৫ কৌশল? কীভাবে মোহনবাগানকে হারিয়ে ২২ বছর পর ট্রফি ঘরে তুলল লাল-হলুদ। এর পিছনে ছিল ৫টি ধুরন্ধর ট্রিকস।
ডুরান্ড কাপ ২০২৬-এ ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল তাদের সংগঠিত রক্ষণ। কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস শুরু থেকেই রক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। আনোয়ার আলি, জয় গুপ্তা এবং হার্দিক ভাটের মতো ডিফেন্ডাররা শুধু প্রতিপক্ষের আক্রমণ আটকাননি, প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণেও উঠে এসেছেন। টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গল চার ম্যাচে ১৪ গোল করেছিল এবং মাত্র একটি গোল হজম করেছিল।
26
লো ব্লক ও জায়গা বন্ধ করার কৌশল
ফাইনালে মোহনবাগানকে আটকাতে হাবাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল ছিল ডিফেন্সিভ লো ব্লক। নিজেদের রক্ষণভাগকে নিচে রেখে মোহনবাগানের আক্রমণের জায়গা কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক ফুটবলাররা বল পেলেও সহজে বিপজ্জনক জায়গায় ঢুকতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের এই রক্ষণাত্মক কাঠামো ভাঙতে পারেনি।
36
মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত ট্রানজিশন
শুধু রক্ষণে আটকে থাকেনি লাল-হলুদ। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনাও ছিল জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। মহম্মদ রশিদের নেতৃত্ব এবং দানি রামিরেজের সৃজনশীলতা ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণকে গতি দিয়েছে। রক্ষণ থেকে বল দখলে নিয়ে দ্রুত সামনের দিকে পাঠানোর ফলে মোহনবাগান নিজেদের রক্ষণ গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ কম পেয়েছে। এই দ্রুত ট্রানজিশনই ফাইনালের প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলকে ভয়ঙ্কর করে তুলেছিল।
ইস্টবেঙ্গলের আর একটি বড় শক্তি ছিল সুযোগ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কাজে লাগানো। ফাইনালে ম্যাচের শুরুতেই বিপিন সিং গোল করেন। এরপর এডমন্ড লালরিন্দিকা পরপর তিনটি গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত লাল-হলুদের হাতে তুলে দেন। মাত্র এক অর্ধে চার গোল করে ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দেয়, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে বেশি সময় বল দখলে রাখার পাশাপাশি সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারও কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
56
বড় ম্যাচের মানসিক প্রস্তুতি
সবশেষে ছিল মানসিক দৃঢ়তা। ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামা ইস্টবেঙ্গলের সামনে ছিল কলকাতা ডার্বির বাড়তি চাপ। তার উপর ফাইনালের আগে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সেই ম্যাচে জয় পাওয়ার পর ফাইনালেও দল আত্মবিশ্বাস ধরে রাখে। ক্লান্তি কাটাতে হাবাস খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন বলেও রিপোর্টে উঠে এসেছে। ফলে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি প্রস্তুত দেখিয়েছে।
66
শেষ কথা
২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ জয় তাই শুধুমাত্র এডমন্ডের হ্যাটট্রিক বা একটি অসাধারণ ফাইনাল ম্যাচের ফল নয়। সংগঠিত রক্ষণ, লো ব্লক, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত ট্রানজিশন, সুযোগের নিখুঁত ব্যবহার এবং মানসিক দৃঢ়তা—এই পাঁচ কৌশলের সম্মিলিত ফলেই ইস্টবেঙ্গল ৪-১ ব্যবধানে মোহনবাগানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক ট্রফি ঘরে তুলেছে।
Sports News in Bengla (খেলার খবর): In depth coverage of Sports news in Bangla. Live update of sports news headlines today (আজকে খেলার খবরের হেডলাইনস এবং শিরোনাম) about Cricket, IPL, Badminton, Hockey - Asianet News Bangla.