
রবিবার আর্জেন্টিনা ও স্পেন কেবল বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যেই খেলছে না, তারা খেলছে বিশেষ 'চ্যাম্পিয়নশিপ রিং' বা আংটি জয়ের জন্যও। কোনও চ্যাম্পিয়নশিপের স্মারক হিসেবে ফিফা এই প্রথম আংটি দেবে। শিরোপাজয়ী দলকে আংটি দেওয়ার প্রথাটি মূলত উত্তর আমেরিকার ক্রীড়াঙ্গনের, যার সূচনা হয়েছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। তবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এটি খুব একটা প্রচলিত নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া এই ফাইনালকে কেন্দ্র করে ফিফার এই উদ্যোগটি মূলত সেই প্রথার প্রতিই এক ধরনের স্বীকৃতি। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়রা বরাবরের মতোই স্বর্ণপদক পাবেন। পাশাপাশি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের পরপরই বিজয়ী দলের অধিনায়ক ও কোচকে সাময়িকভাবে আংটি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে বিজয়ী দলকে ৩০টি বিশেষ নকশার আংটি দেওয়া হবে। ফিফা জানিয়েছে, আংটিগুলোর এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা এবং অন্য পাশে এমন নকশা করা হবে যা "বিজয়ী দলের পরিচিতি ফুটিয়ে তুলবে।
মোট ২,০২৬টি আংটি তৈরি করা হবে (যা ২০২৬ সালকে নির্দেশ করে)। প্রতিটি আংটিতে আলাদা নম্বর ও পরিমাপ অনুযায়ী বিশেষ নকশা থাকবে এবং সঙ্গে দেওয়া হবে সার্টিফিকেট। বিজয়ী দলকে দেওয়া আংটিগুলোর বাইরে বাকি ১,৯৯৬টি আংটি সাধারণ মানুষের জন্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই আংটিগুলোর দাম কত হবে, সে বিষয়ে ফিফা কিছু জানায়নি।
চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেওয়ার প্রথাটি সম্ভবত ১৮৯৩ সালে শুরু হয়েছিল, যখন মন্ট্রিল হকি ক্লাবকে 'ডমিনিয়ন হকি চ্যালেঞ্জ কাপ' (যা বর্তমানে স্ট্যানলি কাপ নামে পরিচিত) দেওয়া হয়েছিল। সে সময় ওই দলটি সাধারণ আংটির উপর ছোট আকারের হকিস্টিক যুক্ত করে বিশেষ আংটি তৈরি করিয়েছিল।
১৯২০-এর দশকে মেজর লিগ বেসবল দলগুলো চ্যাম্পিয়নশিপ রিং দেওয়া শুরু করে। অন্যদিকে, ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগে এনবিএ (NBA) লিগ শুরুর সময় থেকেই এর চ্যাম্পিয়নরা আংটি পেয়ে আসছে এবং ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া সুপার বোল যুগের শুরু থেকেই এনএফএল (NFL) দলগুলোও এই সম্মাননা পেয়ে আসছে। কিছু 'হল অফ ফেম' তাদের সদস্যদের আংটি দিয়ে থাকে। এছাড়া বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধার অংশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিয়ান ও প্যারালিম্পিয়ানরাও আংটি পেয়ে থাকেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে—পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজ, হাই স্কুল এবং এমনকি যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও—চ্যাম্পিয়নশিপের স্মারক হিসেবে আংটি দেওয়ার বিষয়টি বেশ প্রচলিত হয়ে উঠেছে।