
Hasan Mahmud Hat Trick: বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার তথা প্রথম পেস বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান মেহমুদ। রবিবার আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক টেস্টের সিরিজে পরপর তিন বলে তিনটি উইকেট নিলেন হাসান মেহমুদ। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় হ্যাটট্রিক। কিন্তু এর আগের দুটি হ্য়াটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক-টা করেছিলেন করেছিলেন স্পিনার-অলরাউন্ডার অলোক কাপালী। এরপর ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হ্যাট্রিকটি করেছিলেন অফ-স্পিনার সোহাগ গাজী।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮৩তম ওভারে ব্যাটার ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়া-উর রহমানকে আউট করে এদিন হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন হাসান। ৫ উইকেটে ২২০ থেকে আফগানদের স্কোর ৮ উইকেটে ২২০ রান হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৪০ রান। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ইনিংসে ৫৫ রান দিয়ে ৫টি উইকেটও নেন হাসান মেহমুদ। অপর পেসার এবাদত হোসেন ৫৬ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট। দুরন্ত অপরাজিত সেঞ্চুরি করেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ (১০৫*)। ওপেনার আব্দুল মালিক (৬২)ও ভাল খেলেন। কিন্তু বাকিরা একেবারে খারাপ ব্য়াটিং করেন। পাঁচজন আফগান ব্য়াটার শূন্য রানে আউট হন। আফগানদের শেষ ৬টি উইকেটের পতন হয় মাত্র ২১ রানে।
ম্যাচে নিজেদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ৩৪৬ রানের মাঝারি কিন্তু কার্যকর এক সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনে আফগানদের লক্ষ্য ছিল স্কোরবোর্ডকে আরও শক্তিশালী করা। দিনের শুরুতেই আঘাত হানেন আরেক বাংলাদেশি পেসার এবাদত হোসেন। ৩২ রান করা ইকরাম আলিখিলকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। তবে আসল নাটকের তখনও বাকি ছিল, যা মঞ্চস্থ হয় ম্যাচের ৮৩তম ওভারের কাছাকাছি সময়ে।
কীভাবে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান মেহমুদ
HASSAN MAHMUD — TEST HAT-TRICK 🥵
Hassan Mahmud becomes the first Bangladeshi bowler to take a test hat-trick. 🙌 https://t.co/GNhd9bmZcn
— Qamar. (@Qamar5618) October 11, 2026
নিজের স্পেলে পরপর তিন বলে আফগান ব্যাটিং অর্ডারের কোমর ভেঙে দেন হাসান মাহমুদ:
প্রথম শিকার (ইসমত আলম): হাসানের ভেতরের দিকে ঢুকে পড়া এবং কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়া বল ইসমত আলমের ডিফেন্স ভেদ করে সরাসরি অফ-স্টাম্পে আঘাত হানে। ১ রান করে বিদায় নেন ইসমত।
দ্বিতীয় শিকার (কাইস আহমেদ): পরের বলেই কাইস আহমেদকে বিভ্রান্ত করেন হাসান। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের দিকে, যেখানে ডানদিকে উড়ন্ত ডাইভ দিয়ে চমৎকার এক ক্যাচ লুপে নেন লিটন দাস। শূন্য রানে ফেরেন কাইস।
তৃতীয় শিকার ও নাটক (জিয়া-উর-রহমান): হ্যাটট্রিক বলে জিয়া-উর-রহমানকে নিখুঁত এক ইয়র্কার ধাঁচের বলে এলবিডব্লিউর (LBW) ফাঁদে ফেলেন হাসান। অন-ফিল্ড আম্পায়ার প্রথমে আবেদনে সাড়া না দিলে সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ (DRS) নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বল-ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায় বলটি নিশ্চিতভাবেই স্টাম্পে আঘাত করত। আম্পায়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেই উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ দল, সম্পন্ন হয় হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাট্রিক।