
Sports Update: ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে কোচিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিলেন কিংবদন্তি অ্যাথলিট নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra) ও ব্যাডমিন্টনের কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ পুল্লেলা গোপীচাঁদ (Pullela Gopichand)। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইন্ডিয়া (AISTS India)-র সঙ্গে যৌথভাবে বৃহস্পতিবার তাঁরা চালু করলেন ইন্ডিয়ান স্কুল অফ কোচিং এক্সসেলেন্স (Indian School of Coaching Excellence)। নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য, দেশের কোচদের দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া-পরিকাঠামো গড়ে তোলা। আইএসসিই-তে কোচদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে ফিজিক্যাল লিটারেসি, স্পোর্টস সায়েন্স, স্পোর্টস এডুকেশন, প্রযুক্তি এবং কেরিয়ার ডেভেলপমেন্ট।
শুধু এলিট পর্যায়ের অ্যাথলিট নয়, ক্রীড়াবিদদের বিকাশের বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে কাজ করার মতো দক্ষতা তৈরি করাই হবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। একইসঙ্গে কোচদের নিয়মিত শিক্ষা, মেন্টরশিপ এবং আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্সের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের আওতায় সরকার, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (Sports Authority of India), বিভিন্ন স্পোর্টস ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, হাই-পারফরম্যান্স সেন্টার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গেও কাজ করবে আইএসসিই। সম্প্রতি গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Glasgow Commonwealth Games 2026) রুপোজয়ী নীরজ বলেছেন, একজন অ্যাথলিটের সাফল্যের পিছনে কোচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘প্রতিটি অ্যাথলিটের যাত্রা তাঁর কোচের নির্দেশনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। শুধু একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও।’ নীরজের মতে, ভারতে আরও সফল অ্যাথলিট তৈরি করতে হলে কোচদের শিক্ষা, মেন্টরশিপ এবং আধুনিক স্পোর্টস সায়েন্সের জ্ঞান পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, আইএসসিই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে কোচরা নিয়মিত শিখবেন, নিজেদের উন্নত করবেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাথলিটদের অনুপ্রাণিত করবেন।
অন্যদিকে, সাইনা নেহওয়াল (Saina Nehwal), পিভি সিন্ধু (PV Sindhu) ও কিদাম্বি শ্রীকান্তের (Kidambi Srikanth) মতো তারকাদের কোচিং করানো গোপীচাঁদ মনে করেন, ভারতীয় ক্রীড়ার পরবর্তী পর্যায়ের উন্নতির জন্য কোচিং-ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি বলেছেন, ‘ভারতীয় ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে আমরা কেমন ক্রীড়া-পরিবেশ তৈরি করছি তার উপর। আর সেই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন কোচরা।’ আইএসসিই-র মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে ভারতীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে কোচদের নিয়মিত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ করে দেওয়াই লক্ষ্য। শুধু মাঠের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ নয়, স্পোর্টস সায়েন্স ও প্রযুক্তির মতো আধুনিক বিষয়গুলিকেও কোচিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হবে। ভারত যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্যে ক্রীড়াবিদ তৈরির পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন আইএসসিই-র এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি ক্রীড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য শুধু চ্যাম্পিয়ন তৈরি নয়—চ্যাম্পিয়ন তৈরির মতো দক্ষ কোচিং-ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।