
ভারতীয় ক্রিকেটে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি। ১৩ বছরের টেস্ট কেরিয়ারে ইতি টেনেছেন মহম্মদ শামি। ২০২৩ সালের জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালই ছিল ভারতের হয়ে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচ। এরপর একাধিকবার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেও জাতীয় টেস্ট দলে আর জায়গা হয়নি তাঁর। অবশেষে ৬ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেন বাংলার এই তারকা পেসার। শামির এই সিদ্ধান্তে হতাশ ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী। তাঁর মতে, আরও বেশ কয়েকটি টেস্ট খেলার ক্ষমতা ছিল শামির। শুধু তাই নয়, নির্বাচকদের ফিটনেস সংক্রান্ত যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাস্ত্রীর বক্তব্য, শামিকে আরও একটি সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।
ভারতের প্রাক্তন কোচের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে শামির ঝুলিতে আরও ৩০-৪০টি উইকেট যোগ হতে পারত। শাস্ত্রী বলেন, দেশের হয়ে এত ভালো খেলা একজন ক্রিকেটারকে এভাবে বিদায় নিতে দেখা দুঃখজনক। গত ১২ মাসের মধ্যে শামির টেস্ট দলে খেলা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি। শাস্ত্রীর বক্তব্য, শামির মতো অভিজ্ঞ পেসারকে টেস্ট বোলার হিসেবে আরও একটি সুযোগ দেওয়া যেত। তাঁর মতে, নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রতিভার যথাযথ ব্যবহার হয়নি।
শামিকে দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল তাঁর ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোডের বিষয়টি। ২০২৫ সালে ইংল্যান্ড সফরের আগে নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর জানিয়েছিলেন, পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ সিরিজের জন্য শামির বোলিং ওয়ার্কলোড যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসক দলের পরামর্শও ছিল তাঁকে নিয়ে ঝুঁকি না নেওয়ার। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ শাস্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন, জিমে ফিট থাকলেই বা কী লাভ, যদি ম্যাচে ১০-১২ ওভার বল করার মতো সক্ষমতা না থাকে? শাস্ত্রীর মতে, ম্যাচে নিয়মিত বোলিং করাই একজন পেসারের ফিটনেসের বড় প্রমাণ।
শাস্ত্রীর যুক্তির পিছনে রয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। ২০২৬ সালের দলীপ ট্রফিতে ইস্ট জোনের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০২৬-২৭ রঞ্জি ট্রফির প্রথম তিন ম্যাচে ১৪টি উইকেট পেয়েছেন। তাঁর বোলিং গড় ছিল মাত্র ১৪.০০। দিল্লির বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ৫৯ রানে ৫ উইকেট এবং মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন শামি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেই শাস্ত্রীর প্রশ্ন, বাংলার হয়ে নিয়মিত ১৫-২০ ওভার বল করার পরেও কীভাবে তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন ওঠে?
একেবারেই নয়। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও সাদা বলের ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান শামি। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। শাস্ত্রীর মতে, শামির মতো অভিজ্ঞ বোলারকে এখনই ভারতীয় দলের পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, ভবিষ্যতে কোনও সিনিয়র পেসার চোট পেলে শামির অভিজ্ঞতা দলের কাজে আসতে পারে। আইপিএলে ভালো পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলতে পারে।
২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। ঠিক ১৩ বছর পর, ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর সেই ফরম্যাট থেকেই বিদায় নিলেন তিনি।
শামির টেস্ট কেরিয়ার শেষ হলেও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এখন দেখার, নির্বাচকদের আস্থা ফিরে পেয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে আবার কবে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায় এই তারকা পেসারকে।