
Satwiksairaj Rankireddy-Chirag Shetty: টানা ব্যর্থতার পর শেষপর্যন্ত চায়না মাস্টার্সের (China Masters Super 750) গাঁট কাটালেন সাত্বিকসাইরাজ রণকিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টি। রবিবার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে চিনা জুটি হি জি তিং (He Ji Ting) ও রেন জিয়াং ইউকে (Ren Xiang Yu) হারিয়ে প্রথমবার চায়না মাস্টার্স সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্ট জিত ভারতের তারকা জুটি। এক গেমে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েননি সাত্বিক-চিরাগ। ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটের টানটান ফাইনালে তাঁরা হি ও রেনকে ১১-২১, ২১-১৩, ২১-১৭ ব্যবধানে হারিয়ে খেতাব নিশ্চিত করেন। এই জয়ের সঙ্গে সাত্বিক-চিরাগের বিডব্লুএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুর খেতাবের সংখ্যা বেড়ে হল ১০। হে ও রেনের বিরুদ্ধে তাঁদের মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ডও এখন ৩-০। চলতি মরসুমে এটি ভারতীয় জুটির দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে তাঁরা সিঙ্গাপুর ওপেন সুপার ৭৫০ (Singapore Open Super 750) জিতেছিলেন। পাশাপাশি থাইল্যান্ড ওপেন সুপার ৫০০ (Thailand Open Super 500) টুর্নামেন্টের ফাইনালেও পৌঁছে গিয়েছিল ভারতীয় জুটি।
সাত্বিক-চিরাগের এই জয় এসেছে ধৈর্য, কৌশলগত পরিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার হাত ধরে। ফাইনালের শুরুতেই চাপে পড়ে যান তাঁরা। চিনা জুটি শুরু থেকেই দুরন্ত গতিতে খেলতে থাকে। কোর্টের সামনের দিকে দ্রুত র্যালিতে ভারতীয় জুটিকে টেনে এনে তাঁদের গতির সুযোগ নিয়ে স্ম্যাশ করছিলেন হে ও রেন। সাত্বিক-চিরাগ শুরুতেই ০-৫ পিছিয়ে পড়েন। বারবার কোর্টের মাঝখান দিয়ে আক্রমণ চালিয়ে ভারতীয় জুটিকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছিলেন চিনা শাটলাররা। শেষপর্যন্ত ২১-১১ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন হি ও রেন। তবে ভারতীয় জুটি দ্বিতীয় গেম থেকেই ম্যাচের চেহারা বদলে দেয়। নেটের সামনে হি ও রেনকে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না দিয়ে আরও আগে শাটলে ইন্টারসেপ্ট করতে শুরু করেন চিরাগ। এর ফলে চিনা জুটির উপর চাপ বাড়ে এবং তাঁদের কোর্টের আরও বেশি অংশ কভার করতে হয়। এর ফলে সাত্বিক-চিরাগ প্রতিপক্ষকে এক দিক থেকে অন্য দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের ডিফেন্সও উন্নত হয়। একক শক্তিশালী স্ম্যাশের পরিবর্তে একাধিক স্ম্যাশের কম্বিনেশন দিয়ে আক্রমণ করার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম গেমে যে শক্তিশালী স্ম্যাশগুলি চিনা জুটিকে খুব একটা সমস্যায় ফেলতে পারেনি, দ্বিতীয় গেমে তার সঙ্গে যোগ হয় দ্রুত মুভমেন্ট, চাপ এবং বৈচিত্র্য। শেষপর্যন্ত দ্বিতীয় গেম ২১-১৩ জিতে ম্যাচ সমতায় ফেরান সাত্বিক-চিরাগ। এরপর শুরু হয় আসল লড়াই। নির্ণায়ক তৃতীয় গেমে দুই জুটির মধ্যে চলতে থাকে স্নায়ুর লড়াই। কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। একসময় ১১-১০ এগিয়ে ছিল চিনা জুটি। সাত্বিক-চিরাগ কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল করলেও ব্যবধান খুব বেশি বাড়তে দেননি। কোর্টের পিছন দিক থেকে সাত্বিকের কৌশলও তখন কাজে আসতে শুরু করে। বারবার চিনা জুটির ব্যাকহ্যান্ড দিকে শাটল তুলে দিয়ে তাঁদের ধীরগতির রিটার্ন খেলতে বাধ্য করছিলেন তিনি। ফলে প্রতিটি আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতেও হি ও রেনকে বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছিল। তবে ভারতীয় জুটি পুরোপুরি সেই কৌশলের সুবিধা নিতে পারেনি। তাঁদের খেলায় ভুল হচ্ছিল। কিন্তু আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রেখে ম্যাচে সমতা বজায় রাখেন তাঁরা। এরপরই আসে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। নির্ণায়ক গেমের বেশিরভাগ সময় পিছিয়ে থাকার পর অবশেষে ১৮-১৭ ব্যবধানে এগিয়ে যান সাত্বিক-চিরাগ। চাপ বাড়তেই হি ও রেনের খেলায় ভুল দেখা দিতে শুরু করে। ঘরের দর্শকদের সামনে খেলার চাপও যেন চিনা জুটির উপর প্রভাব ফেলছিল। অন্যদিকে, সাত্বিক তখন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ম্যাচ যখন চরম উত্তেজনায়, তখন একটি সাহসী ফ্লিক সার্ভ করেন তিনি। তাতে হি ও রেন অপ্রস্তুত হয়ে যান। তাঁদের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সুযোগ নিয়ে পয়েন্ট তুলে নেয় ভারতীয় জুটি। সেখান থেকেই আসে ম্যাচ পয়েন্ট। আর কোনও ভুল করেননি সাত্বিক-চিরাগ। নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে ম্যাচ শেষ করে প্রথমবারের মতো চায়না মাস্টার্সের শিরোপা জিতে নেন তাঁরা।
সাত্বিক-চিরাগের এই জয় আরও মধুর। কারণ, ২০২৩ ও ২০২৫ সালে চিনের মাটিতে হেরে যায় ভারতীয় জুটি। এবারও শুরুটা হয়েছিল বিপর্যয় দিয়ে। কিন্তু প্রথম গেমের ধাক্কা সামলে, ঘরের দর্শকদের প্রবল সমর্থন পাওয়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং মাঝপথে নিজেদের কৌশল বদলে শেষপর্যন্ত বাজিমাত করলেন তাঁরা। শুরুতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ধীরে ধীরে ম্যাচকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণে আনেন সাত্বিক-চিরাগ। নির্ধারক গেমে চাপ যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখনও আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা ধরে রেখে শেষ হাসি হাসে ভারতের তারকা জুটি। ২০২৩ ও ২০২৫ সালের হতাশার পর অবশেষে চিনের মাটিতে এল সাত্বিক-চিরাগের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।