
Suchika Tariyal:এশিয়ান গেমসের মেগা মঞ্চে ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারত। এশিয়ার সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এই প্রথম বার মিক্সড মার্শাল আর্টসে (এমএমএ) পদক জিতল দেশ। আনন্দের এই মুহূর্ত নিয়ে এলেন ৩৬ বছর বয়সি ভারতীয় লড়াকু অ্যাথলিট সুচিকা তারিয়াল। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় আয়োজিত ২০২৬ এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল -৬০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক নিজের নামে করেছেন তিনি।
এ বারই প্রথম এশিয়ান গেমসের মূল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ইভেন্টটিকে। অভিষেক সংস্করণেই দেশকে ঐতিহাসিক প্রথম পদক এনে দিয়ে ভারতীয় কমব্যাট স্পোর্টসের আকাশে নতুন তারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন সুচিকা।
দেখুন ভিডিও
🚨 SUCHIKA TARIYAL WINS HISTORIC MMA BRONZE FOR INDIA 🇮🇳🥉
Suchika Tariyal has won the bronze medal in the Women’s Traditional -60kg MMA category at the Asian Games 2026.
With MMA making its Asian Games debut, Tariyal has become India’s first-ever Asian Games medallist in the…— contentkikamii (@contentkikamii) September 21, 2026
কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার প্রতিযোগীকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েই ভারতের জন্য অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন সুচিকা। সেমিফাইনালের লড়াইয়ে সিঙ্গাপুরের হিউ হুনের কাছে হেরে স্বপ্ন ভাঙলেও দেশের ঝুলিতে ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদকটি উঠেছে। জুডো, জিউ-জিতসু এবং কুরাশের মতো একাধিক কমব্যাট স্পোর্টসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হওয়ার পর এমএমএ-র রিঙে পা রেখেছিলেন হরিয়ানার এই ক্রীড়াবিদ। তাঁর এই অভূতপূর্ব অর্জন ভারতে এমএমএ খেলার প্রসারে ও উদীয়মান অ্যাথলিটদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছে ক্রীড়ামহল।
মিক্সড মার্শাল আর্টস (MMA) হল একটি পূর্ণাঙ্গ আক্রমণাত্মক কমব্যাট স্পোর্ট, যেখানে বক্সিং, জুডো, কারাতে, রেসলিং এবং ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিতসুর মতো একাধিক মার্শাল আর্ট পদ্ধতির সংমিশ্রণে লড়াই করা হয়।
১. কখন শুরু হয়?
এমএমএ-র ধারণা বেশ প্রাচীন (প্রাচীন গ্রিসের 'প্যানক্রেশন' ইভেন্ট)। তবে আধুনিক এমএমএ-র যাত্রা শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইউএফসি (Ultimate Fighting Championship) গঠনের মাধ্যমে এটি একটি সুনির্দিষ্ট পেশাদার খেলার রূপ নেয়।
২. কে জনপ্রিয় করেন?
ব্রুস লি: তাঁকেই আধুনিক এমএমএ-র জনক বলা হয়; কারণ তিনিই প্রথম ভিন্ন ভিন্ন মার্শাল আর্ট শৈলীকে একসাথে মিলিয়ে লড়াই করার দর্শন প্রচার করেন। গ্র্যাসি পরিবার: ব্রাজিলের এই পরিবার (বিশেষ করে রয়েস গ্র্যাসি) ব্রাজিলিয়ান জিউ-জিতসু প্রয়োগ করে ইউএফসি-র শুরুর দিকে দুর্দান্ত সাফল্য পান এবং বিশ্বজুড়ে এমএমএ-কে জনপ্রিয় করে তোলেন। কনর ম্যাকগ্রেগর ও রোন্ডা রাউজি: আধুনিক যুগে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড পপ-কালচারে এমএমএ-কে অতি-জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এই তারকাদের অবদান সবচেয়ে বেশি।
৩. ভারতে কবে শুরু হয়?
ভারতে ২০০৪ সালে 'ক্লাশ অফ চ্যাম্পিয়ন্স' নামক পেশাদার ইভেন্টের মাধ্যমে এমএমএ-র সূচনা ঘটে। তবে ২০১২ সালে সুপার ফাইট লিগ (SFL) শুরু হওয়ার পর দেশে এটি বাণিজ্যিকভাবে ও যুবসমাজের কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পায়।