
ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারাল সুইডেন। ম্যাচের সপ্তম মিনিটে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার ভুলে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন ব্রাইটন মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। তাঁর এই দুর্দান্ত গোলে গুয়াডালুপেতে লিড নেয় গ্রাহাম পটারের দল। মরক্কো ও তিউনিসিয়ার বংশোদ্ভূত আয়ারি চমৎকার গোলটি করলেও উদযাপনে ছিলেন সংযত। ম্যাচের আধ ঘণ্টা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির এক আক্রমণে বাম প্রান্ত দিয়ে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান আলেকজান্ডার ইসাক, যা থেকে সুইডেন তাদের ব্যবধান দ্বিগুণ করে। লিভারপুলের এই ফরোয়ার্ড বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে এসে ভেতরে ঢুকে শট নেন। তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক মুহিব চামাক বলটি স্পর্শ করলেও তা আটকাতে ব্যর্থ হন।
বাছাইপর্বে কোনও গোল হজম না করার অনন্য নজির গড়েছিল তিউনিসিয়া। এমন কৃতিত্ব দেখানো প্রথম দল ছিল তারাই, যা পরবর্তীতে আইভরি কোস্ট ও ইংল্যান্ডও অর্জন করে। সুইডেন প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, কিন্তু প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। হানিবল মেজব্রির চমৎকার এক ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ওমর রেকিক। তবে ৫৯তম মিনিটে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের আরেকটি বড় ভুলে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি তাদের দুই গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করে। বক্সের ঠিক বাইরে বল পায়ে থাকা অবস্থায় মিডফিল্ডার ইলিয়াস স্কিরিকে পরাস্ত করেন ইসাক। এরপর তিনি বল বাড়িয়ে দেন ভিক্টর গিওকেরেসের দিকে এবং আর্সেনালের এই খেলোয়াড় জোরাল শটে গোল করেন।
ম্যাচের শেষদিকে বদলি খেলোয়াড় ম্যাটিয়াস সভানবার্গ দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন। ভিএআর (VAR) পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি অনসাইড পজিশনে ছিলেন। এরপর পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে আয়ারি আরও একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করার সুযোগ পান এবং তা কাজে লাগান।
সুইডেন ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল, কিন্তু চার বছর পর কাতারে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচে জয় পাওয়া প্রথম আফ্রিকান দল ছিল তিউনিসিয়া। তবে তারা কখনই গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি। এর আগে 'গ্রুপ এফ'-এর অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোল করে ২-২ ব্যবধানে ড্র করে জাপান।