
Vaibhav Suryavanshi এবারের আইপিএলে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং দেশজুড়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু রাজস্থান রয়্য়ালসের ১৫ বছরের বিষ্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী। তবে এবার বৈভবকে নিয়ে চমকপ্রদ খবর একেবারে অন্য কারণে। কর্ণাটকের এক সমাজকর্মী আইপিএলে ১৫ বছরের প্রতিভাবান ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর খেলা নিয়ে সরব হয়ে রাজস্থান রয়ল্যাস-এর বিরুদ্ধে FIR দায়েরের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কর্ণাটকের সমাজকর্মী সিএম শিবকুমার নায়েক বৈভবের আইপিএলে খেলাকে 'শিশুশ্রম' বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এত অল্প বয়সে বৈভবকে পেশাদার ক্রিকেটে নামানো মানে একপ্রকার নাবালকের শোষণ। বৈভবকে দলে নিয়ে রাজস্থান শিশুশ্রমের বিজ্ঞাপন করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
২০০১ নয়, ২০১১ সালের ২৭ মার্চ জন্ম নেওয়া বৈভব সূর্যবংশীর বয়স বর্তমানে মাত্র ১৫ বছর। এত কম বয়সেই আইপিএলে খেলার জন্য তিনি ইতিমধ্যেই শিরোনামে। বিহারের এই তরুণ ক্রিকেটার বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে উঠে এসেছেন। আইপিএল নিলামে রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ১.১ কোটি টাকায় দলে নেয়, যা তাঁকে টুর্নামেন্টের অন্যতম কনিষ্ঠ চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় করে তোলে। ইতিমধ্যেই বৈভব দেশের হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলে চমকে দিয়েছেন।
এই বিতর্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে, যখন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টে শিবকুমার নামের সেই সমাজকর্মীর মন্তব্য ভাইরাল হয়। সেই পোস্টে বৈভবের রাজস্থান রয়্যালসের জার্সি পরা ছবি সহ তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। একটি কন্নড় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে শিবকুমার নায়েক বলেন, "১৫ বছরের একটি ছেলের জায়গা আইপিএলের মতো মানসিক চাপপূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য নয়। ওর উচিত পড়াশোনায় মন দেওয়া।" তাঁর দাবি, ক্রিকেটের জন্য বৈভব নাকি বোর্ড পরীক্ষাও এড়িয়ে যাচ্ছে, যা তাঁর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের হয়নি। বিষয়টি আপাতত শুধুই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই অবস্থানকে হাস্যকর এবং প্রচারের উদ্দেশ্যে করা বলে কটাক্ষ করেছেন। অনেকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে শিশু শ্রম আইন মূলত বিপজ্জনক কাজ বা শোষণমূলক শ্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে, অভিভাবকের সম্মতি ও পর্যাপ্ত নজরদারির মধ্যে পেশাদার খেলাধুলা সাধারণত এই আইনের আওতায় পড়ে না।