গোবর থেকে গ্যাস ও আয়, যোগীর মডেলে বদলাবে উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতির দিশা

Published : Jan 13, 2026, 07:11 PM IST
গোবর থেকে গ্যাস ও আয়, যোগীর মডেলে বদলাবে উত্তরপ্রদেশের অর্থনীতির দিশা

সংক্ষিপ্ত

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনায় উত্তরপ্রদেশে গরু-ভিত্তিক অর্থনীতি নতুন শক্তি পাচ্ছে। গোবর থেকে তৈরি কম্প্রেসড বায়োগ্যাস তেল ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমাবে, পশুপালকদের আয় বাড়াবে এবং গ্রামগুলিকে আত্মনির্ভর করে তুলবে।

উত্তরপ্রদেশে গরু এখন শুধু আস্থা আর ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, শক্তিশালী অর্থনীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পরিকল্পনার অধীনে, রাজ্যে এমন একটি শক্তি মডেল তৈরি হচ্ছে, যেখানে গোবর থেকে তৈরি কম্প্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাবে না, হাজার হাজার পশুপালকের জন্য স্থায়ী আয়ের পথও খুলে দেবে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ দ্রুত দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলির মধ্যে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।

তেল ও এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমানোর ठोस কৌশল

রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণে গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করে তাকে কম্প্রেসড বায়োগ্যাসে রূপান্তরিত করা হবে। এটি রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে যানবাহনের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, যদি রাজ্যে এক লক্ষ গরুর গোবর থেকে মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করা হয়, তবে পেট্রোলিয়াম পণ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। এই সাশ্রয় সরাসরি অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।

২০২২ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ইউপি নেডা-র অধীনে রাজ্যে ২৬টিরও বেশি সিবিজি প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। লখনউ, গোরখপুর, মথুরা, মুজফ্ফরনগর, মিরাট, বুলন্দশহর, বারাবাঙ্কি, বদায়ুঁ, বেরিলি এবং মির্জাপুরের মতো জেলাগুলিতে এই প্ল্যান্টগুলি থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ২১টিরও বেশি নতুন সিবিজি প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা আরও বাড়াবে।

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সিবিজি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা

গো সেবা আয়োগের অধ্যক্ষ শ্যাম বিহারী গুপ্তার মতে, সিবিজি-কে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য পর্যায়ক্রমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। প্রাথমিক প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন থেকে জানা যায় যে একটি দেশি গরু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ কিলোগ্রাম গোবর পাওয়া যায়। এই গোবর থেকেই মিথেনযুক্ত বায়োগ্যাস তৈরি করা সম্ভব।

গো সেবা আয়োগের ওএসডি ডঃ অনুরাগ শ্রীবাস্তবের মতে, পরিশোধনের পর এই গ্যাসই কম্প্রেসড বায়োগ্যাসে পরিণত হয়, যা বাড়ির রান্নাঘর এবং যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর ফলে শক্তির প্রচলিত উৎসগুলির ওপর চাপ কমবে এবং स्वच्छ জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।

পশুপালকদের আয় বাড়ানোর নতুন পথ

এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন পশুপালকরা। গোবর, যা আগে শুধু কৃষি বা গোশালায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন আয়ের উৎস হয়ে উঠছে। বেসরকারি অংশীদারিত্বে পরিচালিত বারাবাঙ্কির সিবিজি প্ল্যান্ট এবং মথুরার শ্রী মাতাজি গোশালার মতো উদ্যোগগুলি প্রমাণ করে যে এই মডেল বাস্তবে সফল হতে পারে।

গ্রামগুলিকে আত্মনির্ভর করার দিকে বড় পদক্ষেপ

গোবর থেকে শক্তি, শক্তি থেকে জৈব-সার এবং জৈব-সার থেকে কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর এই চক্র গ্রামের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। এতে শুধু কৃষকদের খরচই কমবে না, উৎপাদনও বাড়বে। পাশাপাশি, রাজ্য শক্তি সুরক্ষার দিকে আরও শক্তিশালী হবে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এই পরিকল্পনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে আগামী দিনে উত্তরপ্রদেশ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভর ভারতের ধারণার একটি শক্তিশালী মডেল হিসেবে উঠে আসবে। গরু, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গ্রামীণ জীবনের অংশ, এখন রাজ্যের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে চলেছে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

গাফিলতি কোনও ভাবেই বরদাস্ত নয়! আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী
নালিশ জানাতে ছুটতে হবে না থানায়, আমজনতার জন্য 'ইউপি কপ' চালু উত্তরপ্রদেশ সরকারের