
অযোধ্যা: রাম নগরী অযোধ্যায় ফুল চাষে বিপ্লব আনতে বড়সড় এক প্রজেক্ট শুরু করতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। অযোধ্যার পিরখৌলি এলাকায় প্রায় তিন হেক্টর জমির উপর দু'কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে উত্তরপ্রদেশের প্রথম 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর ফ্লাওয়ার'। এই কেন্দ্রটি ফুল চাষিদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের একটি প্রধান হাব হয়ে উঠবে। এখান থেকেই শ্রী রাম মন্দিরের জন্য নিয়মিতভাবে উন্নত মানের ফুল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
হর্টিকালচার বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর অনুপ কুমার চতুর্বেদী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি রাজ্যে আধুনিক ফুল চাষকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। এই সেন্টারে কৃষকদের উন্নত প্রজাতির ফুল, বিজ্ঞানসম্মত চাষের পদ্ধতি, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, সেচ প্রযুক্তি এবং মার্কেটিং সংক্রান্ত সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এখানে ডাচ গোলাপ এবং গাঁদা ফুলের বেশ কিছু জনপ্রিয় ও বিরল প্রজাতির চাষ করা হবে। যোগী সরকার কৃষি ও উদ্যানপালন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করে কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। সেই পথেই এটি রাজ্যের প্রথম বড় ফ্লাওয়ার প্রজেক্ট হতে চলেছে।
আধিকারিকদের মতে, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এরপর একই মডেলে মথুরা এবং বারাণসীতেও 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর ফ্লাওয়ার' তৈরি করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হল গোটা রাজ্য জুড়ে ফুল উৎপাদনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যাতে কৃষকরা নতুন কর্মসংস্থান এবং আয়ের সুযোগ পান।
এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ফুল চাষ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে। বর্তমানে বেশিরভাগ কৃষকই চিরাচরিত চাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু अब তাঁরা ফুল চাষ করে আরও বেশি লাভ করতে পারবেন। এই কেন্দ্রটি শুধু ফুল উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ড্রাই ফ্লাওয়ার, প্রসেসিং এবং রফতানির মতো সম্ভাবনাকেও উৎসাহিত করবে। এর ফলে স্থানীয় কৃষকরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অযোধ্যার শ্রী রাম মন্দিরে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে ফুলের প্রয়োজন হয়। এই কেন্দ্রটি মন্দিরের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্নত মানের ফুল সরবরাহ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে বাইরে থেকে ফুল আনার উপর নির্ভরতা কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
এই ফ্লাওয়ার সেন্টার অফ এক্সেলেন্স তৈরি ও পরিচালনার ফলে কয়েকশো যুবক ও মহিলা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফুল কাটা, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং মার্কেটিং-এর মতো কাজে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ বাড়বে। এই প্রকল্পটি 'আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশ' গড়ার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্যানপালন বিভাগ এই পুরো প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করছে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই কেন্দ্রে আধুনিক গ্রিনহাউস, ড্রিপ ইরিগেশন, সোলার পাওয়ার এবং টিস্যু কালচার ল্যাবের মতো অত্যাধুনিক সুবিধা থাকবে। কৃষকরা এখানে বিশেষজ্ঞদের থেকে সরাসরি পরামর্শ নিতে পারবেন এবং ভালো বাজারদর পাওয়ার জন্য আধুনিক কৌশল শিখতে পারবেন।
এই উদ্যোগ শুধু অযোধ্যা নয়, গোটা উত্তরপ্রদেশের কৃষি ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যোগী সরকার কৃষি বৈচিত্র্য, কৃষক কল্যাণ এবং ধর্মীয় পর্যটনকে একসঙ্গে জুড়ে একটি সার্বিক উন্নয়নের মডেল তৈরি করছে। পিরখৌলির এই ফ্লাওয়ার সেন্টার সেই মডেলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে চলেছে।