
মউ: নিজের জন্মভূমির প্রতি সেবার মনোভাব রাখাই আসল দেশপ্রেম। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার তাজোপুর গ্রামে গ্রামীণ সৈনিক হসপিটালের উদ্বোধন করতে এসে এই কথাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই উদ্যোগের পিছনে থাকা ব্রিগেডিয়ার ডঃ পি.এন. সিং-এর প্রশংসা করে তিনি বলেন, "সেনাবাহিনীতে ৩৫ বছর ধরে দেশের সেবা করার পর নিজের মাটির টানে ফিরে এসে হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়াটা গোটা দেশের কাছেই এক বড় অনুপ্রেরণা।"
এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ভগবান শ্রীরামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, "জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী", অর্থাৎ মা এবং মাতৃভূমি স্বর্গের থেকেও বড়। তিনি আরও বলেন, জীবনে মানুষ যতই বড় হোক না কেন, নিজের শিকড়কে কখনও ভোলা উচিত নয়। ব্রিগেডিয়ার সিং আর্মি মেডিকেল কোর থেকে অবসর নেওয়ার পর তাজোপুরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার যে কেন্দ্রগুলি তৈরি করেছেন, তা গ্রামীণ ভারতের বিকাশের এক চমৎকার মডেল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ব্রিগেডিয়ার পি.এন. সিং-এর তৈরি এই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছে না, এলাকার তরুণদের ভবিষ্যৎও গড়ছে। এখানে সৈনিক নার্সিং কলেজের মাধ্যমে নার্সিং, ফার্মেসি কলেজের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং আইটিআই-এর মাধ্যমে তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈনিক পাবলিক স্কুল এলাকার শিশুদের উন্নতমানের শিক্ষা দিচ্ছে। যোগী বলেন, একটা সময় ছিল যখন মউ নিজের পরিচয়ের জন্য লড়াই করত, কিন্তু আজ এই প্রতিষ্ঠানগুলির দৌলতে জেলাটি উন্নয়নের নতুন শিখরে পৌঁছাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব'-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীর দেওয়া "পঞ্চ সঙ্কল্প"-এর কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের সকলকে:
মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভারত তখনই উন্নত দেশ হবে, যখন আমাদের গ্রামগুলি স্বনির্ভর হবে। তাজোপুরে তৈরি হওয়া এই প্রতিষ্ঠানগুলি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে এবং স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান তৈরি করছে। তিনি ব্রিগেডিয়ার সিং-এর 'চরৈবেতি-চরৈবেতি' (নিরন্তর এগিয়ে চলা) মন্ত্রের প্রশংসা করেন এবং আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার দেশের স্বার্থে এই ধরনের কাজে সবরকম সাহায্য করবে।
এই অনুষ্ঠানে ক্যাবিনেট মন্ত্রী এ.কে. শর্মা, দারা সিং চৌহান, দয়াশঙ্কর সিং এবং হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগেডিয়ার ডঃ পি.এন. সিং সহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।