উত্তরপ্রদেশে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ২৬টি জেলায় ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আধিকারিকদের সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাহায্যের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বৃহস্পতিবার তিনি এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণকাজে গতি আনার জন্য প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত প্রাণহানি, গবাদি পশুর মৃত্যু এবং অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির হিসেব শেষ করতে বলেছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে যাতে অবিলম্বে আর্থিক সাহায্য পৌঁছে যায়, সেটাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ সমস্ত সিনিয়র অফিসারদের অফিস থেকে বেরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ত্রাণ যাতে সময়মতো দুর্গতদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের সরাসরি মানুষের কাছে যেতে হবে এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
প্রশাসনকে সবরকমভাবে সাহায্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ত্রাণ বিলি স্বচ্ছ ও দ্রুততার সঙ্গে হয়। সরকারি সমস্ত বিভাগকে একযোগে কাজ করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নাগরিকদের কল্যাণই সরকারের প্রধান কাজ এবং ত্রাণ বিলি বা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা মেনে চলতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির প্রশাসন এখন ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করতে ব্যস্ত।
২৬টি জেলা জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা
সক্রিয় পশ্চিমা ঝঞ্ঝা এবং ঘূর্ণাবর্তের জেরে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে ধুলোঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি এবং বজ্রপাত এককথায় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যের ২৬টি জেলায় এখনও পর্যন্ত ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭২ জন আহত হয়েছেন। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এর জেরে রাজ্যের পরিকাঠামো এবং জরুরি পরিষেবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি।
পরিকাঠামো ও কৃষিতে বড়সড় ধাক্কা
এই ঝড়ে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২২৭টিরও বেশি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের দাপটে বহু বাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং দুর্বল কাঠামোগুলি মাটিতে মিশে গেছে। শত শত বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ায় এবং হাই-টেনশন তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অকাল শিলাবৃষ্টি এবং ভারী বর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও, ১৭০টি গবাদি পশুর মৃত্যু হওয়ায় কৃষিক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
জরুরি ভিত্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে প্রশাসন
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্য প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো এবং জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে আর্থিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সাহায্য পৌঁছে দিতে হবে।
রাজস্ব ও কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি একাধিক টিম বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা চালাচ্ছে, যাতে দ্রুত বিমার টাকা ও সরকারি প্যাকেজ দেওয়া যায়। ত্রাণ কমিশনারের দপ্তর ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ঝড়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া রাজ্য সড়কগুলি পরিষ্কার করার কাজ চলছে এবং ২৬টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকে আসা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


