
লখনউ: উত্তরপ্রদেশ এবার ডিপ টেক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দ্রুত এগোচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে সরকারি প্রকল্পগুলো সমাজের শেষ মানুষটির কাছেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। লখনউতে IBM-এর AI GovTech ইনোভেশন সেন্টারের উদ্বোধনে এসে এই কথাগুলোই বললেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
যোগী আদিত্যনাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের দিকে এগোচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মাধ্যমে দেশের ১৪০ কোটি মানুষ ডিজিটাল পরিচয় পেয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন। আর ডিবিটি (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ স্বচ্ছ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্পের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই গৌতমবুদ্ধ নগরে রাজ্যের প্রথম সেমিকন্ডাক্টর ইউনিটের শিলান্যাস করা হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে হওয়া ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিটেও বিশ্ব নেতারা ভারতের ডিজিটাল উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরের সঙ্গে IBM-এর চুক্তির (MoU) জন্য IBM ইন্ডিয়ার সিইও ডঃ অরবিন্দ কৃষ্ণ এবং তাঁর টিমকে ধন্যবাদ জানান। অরবিন্দ কৃষ্ণও তাঁর বক্তব্যে ভারত এবং উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমরা গর্বিত যে দেশের প্রথম কম্পিউটার IBM কানপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (IIT) স্থাপন করেছিল।" তিনি আরও যোগ করেন, গত ১১ বছরে ভারত পরিকাঠামো এবং ডিপ টেক-এর ক্ষেত্রে দারুণ উন্নতি করেছে।
যোগী আদিত্যনাথ জানান, গত বছর তিনি আইআইটি কানপুরে একটি ডিপ টেক কনফারেন্সে যোগ দিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার মেডটেক ক্ষেত্রেও কাজ করছে। এবারের বাজেটে রোবোটিক্সের জন্য একটি 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স' তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ড্রোন প্রযুক্তির জন্যও বাজেটে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করে মানুষের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি এবং AI টুলসের সঠিক ব্যবহারে সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভব। ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে কয়েক দশক ধরে এনসেফ্যালাইটিসে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। অনুমান করা হয়, প্রায় ৫০,০০০-এর বেশি শিশু এই রোগে প্রাণ হারায়। আগে এই রোগের সঠিক তথ্য সংগ্রহ বা বিশ্লেষণ করা হয়নি। কিন্তু তাঁর সরকার তথ্য সংগ্রহ করে তার বিশ্লেষণ করে। দেখা যায়, যেখানে স্বচ্ছ পানীয় জল এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব, সেখানেই এই রোগ বেশি।
এরপর স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং জল জীবন মিশনের আওতায় 'হর ঘর নল' যোজনা কার্যকর করা হয়। আজ উত্তরপ্রদেশে এনসেফ্যালাইটিস প্রায় নির্মূল এবং এই রোগে মৃত্যুও বন্ধ হয়ে গেছে। এটা প্রমাণ করে যে AI এবং ডেটা অ্যানালিসিস স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রের উদাহরণ দিয়ে যোগী বলেন, আগে মনে করা হত স্কুল দূরে হওয়ায় মেয়েরা পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কিন্তু AI টুলস দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্কুলছুটের আসল কারণ ছিল শৌচাগারের অভাব। আগে স্কুলগুলোতে যথেষ্ট ক্লাসরুম, শিক্ষক, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সুবিধা ছিল না। সরকার সমস্ত স্কুলে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা শৌচাগার এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছে। এর ফলে বেসিক শিক্ষা পরিষদের স্কুলগুলোতে স্কুলছুটের হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে। এটাও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের একটা বড় উদাহরণ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার লখনউকে একটি 'AI সিটি' হিসেবে গড়ে তুলছে। IBM-এর সহযোগিতায় এই পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর ক্ষেত্রেও শক্তিশালী দাবিদার। আইআইটি কানপুর এবং নয়ডা ক্যাম্পাসের সহযোগিতায় এই দিকেও কাজ শুরু হবে। রাজ্য সরকার, আইআইটি এবং IBM একসঙ্গে এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
এই অনুষ্ঠানে IBM এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের মধ্যে দুটি চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে AI-ভিত্তিক সমাধান তৈরি করা হবে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে মিলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য AI সাক্ষরতা প্রোগ্রাম শুরু হবে। এর মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন IBM ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সন্দীপ প্যাটেল, আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক মণীন্দ্র আগরওয়াল এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
অরবিন্দ কৃষ্ণ বলেন, AI সরকারি কাজের ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়াবে। ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এখন AI-কে পরীক্ষামূলক স্তর থেকে প্রয়োগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দায়িত্বশীল AI ব্যবহারে ভারতের উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য।