
লখনউ: উত্তরপ্রদেশের পূর্ত দপ্তর (PWD) রাজ্যের সার্কিট হাউস আর গেস্ট হাউস বুকিং-এর জন্য অনলাইন পরিষেবা চালু করেছে। এই নতুন ব্যবস্থায় এখন থেকে রাজ্যের ২১টি সার্কিট হাউস এবং ৩৩৪টি গেস্ট হাউসের ঘর অনলাইনে বুক করা যাবে। বুকিং প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়ায় এখন ঘরের প্রাপ্যতা সম্পর্কে মানুষ সহজেই জানতে পারবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক বেশি সহজ, স্বচ্ছ ও গোছানো হবে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির অংশ হিসেবেই পূর্ত দপ্তর এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। এর জন্য 'সার্কিট হাউস ইনফরমেশন সিস্টেম' নামে একটি ওয়েব-ভিত্তিক পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে। এই অনলাইন পোর্টালে রিয়েল-টাইম রুম অ্যাভেলেবিলিটি ড্যাশবোর্ড আর লাইভ রুম স্ট্যাটাস দেখা যাবে।
এর ফলে কোন সার্কিট হাউসে ক'টা ঘর খালি আছে, তা সহজেই জানা যাবে। আগে এই পুরো কাজটা ইমেল বা ফোনে ম্যানুয়ালি হতো, যা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেল।
এই নতুন ব্যবস্থায় ঘর বুকিং-এর পাশাপাশি পেমেন্ট এবং রেকর্ড ম্যানেজমেন্টও পুরোপুরি অনলাইন। আবেদনকারীকে নিজের পরিচয়পত্র বা অনুমোদনের চিঠি অনলাইনে আপলোড করতে হবে। এরপর পেমেন্টও করতে হবে অনলাইনেই। টাকা জমা পড়লেই ইমেল এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে বুকিং-এর রসিদ চলে আসবে। এছাড়াও, সমস্ত লেনদেনের রেকর্ড একটি ডিজিটাল লেজারে সেভ থাকবে, যা রাজস্বের হিসেব রাখতে সাহায্য করবে।
এই নতুন ব্যবস্থায় দপ্তরের সদর দপ্তর এবং জেলা স্তরে একটি সেন্ট্রালাইজড ড্যাশবোর্ড থাকছে। এর মাধ্যমে সমস্ত বুকিং এবং রাজস্বের ওপর রিয়েল-টাইমে নজর রাখা যাবে। এতে শুধু রাজস্বের ক্ষতিই আটকানো যাবে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে। সরকারের আশা, এই ব্যবস্থার ফলে সরকারি সম্পত্তির সঠিক ব্যবহার হবে, রাজস্ব বাড়বে এবং সাধারণ মানুষও সহজে এই সুবিধাগুলো পাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সার্কিট হাউসের কিছু ঘর ভিআইপি সফর এবং জরুরি সরকারি কাজের জন্য রিজার্ভ থাকবে। বাকি ঘরগুলো 'আগে এলে আগে পাবেন' (ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ) ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে। আগ্রহীরা সার্কিট হাউস ইনফরমেশন সিস্টেমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই ঘর বুক করতে পারবেন।
বিশেষ পরিস্থিতিতে, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে অন-দ্য-স্পট বুকিংও এই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেই করা যাবে। তবে, কোনও ভিআইপি সফর বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে জেলাশাসক আগে থেকে করা বুকিং বাতিল করার অধিকার রাখেন।