
AI Candidate Gaitana: আম জনতার নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। চ্যাট জিপিটি এখন অনেক কাজই করে দেওয়ায় অনেকের চাকরিও যাচ্ছে। মানুষ ক্রমশও এআই নির্ভর হয়ে উঠছে। এবার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়ল এআই। রাজনীতিতে যোগ দিয়ে একেবারে প্রার্থী হয়ে গেল এআই চালিত রোবট। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া-তে আগামী ৮ মার্চ নির্বাচন। সেখানে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত অবতার। নাম 'গাইতান'। প্রযুক্তি ও গণতন্ত্রের এই অদ্ভুত মেলবন্ধন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ভোটে জিতলে জনপ্রতিনিধি হবে এক রোবট। মানে মানুষের নীতি নির্ধারক হবে যাবে এআই।
গাইতানা আসলে একটি এআই-চালিত ডিজিটাল চরিত্র, যাকে তৈরি করা হয়েছে বিশেষভাবে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে। নামটি নেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক আদিবাসী প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নারী যোদ্ধা লা গাইতানা-র নাম থেকে। সামাজিক মাধ্যমে এআই অবতার 'গাইতানা'-কে নীলচে ত্বকের এক মহিলা রূপে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে পরিবেশবাদী, প্রাণী অধিকার রক্ষক এবং অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এআই গাইতানিরা নির্বাচনী প্রচারের মূল বক্তব্য, "সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করা।" এমনকি ভোটে প্রচারে বলা হয়েছে, 'এখানে সবাই মানানসই। মানুষ না হলেও।" প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলিকে আক্রমণ করে গাইতানার বক্তব্য, তারা আদিবাসী মর্যাদাকে ভোটের পণ্য বানিয়ে ফেলেছে। এআই গাইতানিরা এই প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এআই কি আদৌ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে? বর্তমান নির্বাচনী আইন কি এ ধরনের ডিজিটাল সত্তাকে স্বীকৃতি দেয়? আবার সমর্থকদের মতে, এটি ভবিষ্যতের গণতন্ত্র।যেখানে প্রযুক্তি মানুষের অংশগ্রহণকে আরও বিস্তৃত করবে।
গাইতানার প্রচার মূলত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর বিশেষ করে Instagram-এ @gaitana_ia নামে সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি খবরটি ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। বিশ্বের অন্যত্রও রাজনীতিতে এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। যেমন ব্রিটেনে -এর ২০২৪ সালের নির্বাচনে 'AI Steve' নামে এক ভার্চুয়াল প্রার্থী আলোচনায় আসে। আবার জাপান-এ প্রযুক্তিনির্ভর নীতি নিয়ে কাজ করা Team Mirai নির্বাচনে জয়ও পেয়েছে।