
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অ্যাপল অবশেষে ২০২৬ সালের জন্য তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ আইফোন বাজারে আনার তারিখ নিশ্চিত করেছে। কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে যে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের একটি বড় ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এই ইভেন্টের থিম হল "সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন" (Surprise and Shine)। যেখানে ‘আইফোন ১৮ প্রো’ (iPhone 18 Pro) সিরিজের পাশাপাশি তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনটি লঞ্চের সম্ভাবনা রয়েছে।
‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ (Surprise and shine) স্লোগান-যুক্ত এই অনুষ্ঠানটি ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোতে অবস্থিত অ্যাপল পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। অ্যাপল সম্ভবত তাদের ওয়েবসাইট, ইউটিউব এবং অ্যাপল টিভি অ্যাপের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। ভারতের দর্শকদের জন্য অনুষ্ঠানটি ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০:৩০-এ (IST) শুরু হবে।
অনুষ্ঠানটিতে অ্যাপল তিনটি নতুন আইফোন লঞ্চ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে—আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং তাদের প্রথম ফোল্ডেবল মডেল, যার নাম ‘আইফোন আল্ট্রা’ (iPhone Ultra) হতে পারে বলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। আগের বছরগুলোর মতো এবার প্রো মডেলগুলোর সঙ্গে সাধারণ ‘আইফোন ১৮’ আসার সম্ভাবনা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড আইফোন ১৮, আইফোন ১৮ই (iPhone 18e) এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ‘আইফোন এয়ার’ (iPhone Air) সম্ভবত ২০২৭ সালে বাজারে আসতে পারে।
আইফোন ১৮ প্রো মডেলগুলোতে পরিচিত ডিজাইন এবং একই ধরনের ডিসপ্লে সাইজ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অ্যাপল বেশ কিছু হার্ডওয়্যার আপগ্রেড করতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে ভেরিয়েবল-অ্যাপারচারযুক্ত মেইন ক্যামেরা এবং ছোট আকারের ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ (Dynamic Island)। ফোনগুলোতে অ্যাপলের ‘সি২’ (C2) মডেম এবং নতুন ‘এ২০ প্রো’ (A20 Pro) চিপ ব্যবহারেরও সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২-ন্যানোমিটার (2nm) ম্যানুফ্যাকচারিং প্রক্রিয়ায় তৈরি বলে জানা গেছে। কালো, রুপালি এবং হালকা নীল রঙের পাশাপাশি প্রো মডেলগুলো ‘ডার্ক চেরি’র (Dark Cherry) মতো নতুন রঙের বিকল্পেও আসতে পারে। মেমোরির খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে ফোনগুলোর দামও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফোল্ডেবল আইফোনটি সম্ভবত এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে যে এতে বইয়ের মতো খোলার উপযোগী (বুক-স্টাইল) ডিজাইন থাকবে, যার বাইরের দিকের ডিসপ্লেটি হবে প্রায় ৫.৩-৫.৫ ইঞ্চির এবং ভেতরের স্ক্রিনটি হবে ৭.৬-৭.৮ ইঞ্চির। খোলার পর ডিভাইসটি ট্যাবলেট-এর মতো করে ব্যবহার করা যাবে।
ফোল্ডেবল বডি বা কাঠামোটি পাতলা রাখার জন্য অ্যাপলকে কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ফোনে ফেস আইডি (Face ID)-র পরিবর্তে পাওয়ার বাটনযুক্ত টাচ আইডি (Touch ID) থাকতে পারে এবং টেলিফটো লেন্সের বদলে এতে দুটি রিয়ার ক্যামেরা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং প্রায় অদৃশ্য ভাঁজযুক্ত ডিসপ্লেও এতে দেখা যেতে পারে। ফোল্ডেবল আইফোনটি অ্যাপলের এযাবৎকালের সবচেয়ে দামি স্মার্টফোন হতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী এর প্রাথমিক দাম হতে পারে প্রায় ১,৯৯৯ ডলার। কিছু নির্দিষ্ট কনফিগারেশনের দাম ২,৫০০ ডলার পর্যন্তও হতে পারে।
অ্যাপল সম্ভবত 'অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২' (Apple Watch Series 12) এবং 'অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪' (Apple Watch Ultra 4) বাজারে আনতে যাচ্ছে। ঘড়িগুলোর ডিজাইনে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এর পরিবর্তে প্রসেসর, ব্যাটারি লাইফ, ফিটনেস ট্র্যাকিং এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ফিচারের উন্নয়নেই মূলত জোর দেওয়া হবে। সিরিজ ১২-এর ক্ষেত্রে সিরামিক কেস বা বডির বিকল্প থাকারও গুঞ্জন রয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটি 'এয়ারপডস ৫' (AirPods 5) লঞ্চ করতে পারে, যার মধ্যে অ্যাক্টিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন সুবিধা থাকতে পারে। নতুন স্মার্ট হোম পণ্য আসারও সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও এর মধ্যে কিছু ডিভাইস হয়তো পরবর্তী কোনও ইভেন্টের জন্য তুলে রাখা হতে পারে।
এই ইভেন্টে অ্যাপল iOS 27, iPadOS 27, macOS Golden Gate এবং অন্যান্য সফটওয়্যার আপডেট লঞ্চের তারিখ ঘোষণা করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের এই লঞ্চ ইভেন্টটি অ্যাপলের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঠিক পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর জন টার্নাস (John Ternus) সিইও (CEO) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং টিম কুক (Tim Cook) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যানের পদে সরে যাবেন।