
স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অপো (OPPO) আগামী ২১ অক্টোবর স্পেনের মায়োর্কা শহরে তাদের ফ্ল্যাগশিপ 'ফাইন্ড এক্স১০ সিরিজ' (Find X10 Series) গ্লোবাল মার্কেটে লঞ্চ করতে যাচ্ছে। জনপ্রিয় ক্যামেরা নির্মাতা হ্যাসেলব্লাডের (Hasselblad) সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই সিরিজে স্মার্টফোনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ট্রিপল 200MP ক্যামেরা সিস্টেম আনছে তারা।
অপো ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স (Find X10 Pro Max) মডেলে আল্ট্রা-ওয়াইড, মেইন এবং টেলিফটো—তিনটি ক্যামেরাতেই থাকছে 200MP সেন্সর। অপো জানিয়েছে, এর আগে কোনো স্মার্টফোনে এমন ক্যামেরা সেটআপ দেখা যায়নি। অন্যদিকে, রেগুলার ফাইন্ড এক্স১০ (Find X10) মডেলে থাকছে ডুয়াল 200MP ক্যামেরা।
দুটি মডেলেই অপোর নতুন 'LUMO True Image Engine' ব্যবহার করা হয়েছে। এটি এমন একটি কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি সিস্টেম, যা ডেডিকেটেড সেন্সরের সাহায্যে নিখুঁতভাবে আলো ও রং ব্যালেন্স করে একদম ন্যাচারাল ছবি তুলতে সাহায্য করবে।
অপোর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ প্রোডাক্ট অফিসার পিট লাউ (Pete Lau) বলেন, "হ্যাসেলব্লাডের সঙ্গে মিলে ফাইন্ড এক্স১০ সিরিজের মাধ্যমে আমরা মোবাইল ফটোগ্রাফিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছি। কোনো বাড়তি সেটিংস ছাড়াই এখন চোখ যা দেখবে, ক্যামেরা ঠিক সেই আসল রংটাই ফ্রেমবন্দি করবে।" ধারণা করা হচ্ছে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস সিরিজ এবং অ্যাপল আইফোন প্রো মডেলগুলোকে কড়া প্রতিযোগিতায় ফেলবে এই ফোন।
ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স মডেলটি ২ ন্যানোমিটার (2nm) প্রযুক্তির মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯৬০০ প্রো (Dimensity 9600 Pro) চিপসেট নিয়ে আসা প্রথম দিকের স্মার্টফোনগুলোর একটি হতে চলেছে। এটি যেমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেবে, তেমনি ব্যাটারিও কম খরচ করবে। আর রেগুলার ফাইন্ড এক্স১০ মডেলে থাকছে ডাইমেনসিটি ৯৬০০এম (Dimensity 9600M) প্রসেসর।
সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চেয়ে বেশি এনার্জি ডেনসিটির সিলিকন-কার্বন (Silicon-Carbon) প্রযুক্তির 8000mAh ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে এতে। অপোর দাবি, একবার চার্জ দিলে ফোনটি টানা দুই দিন চলবে। এমনকি পাঁচ বছর টানা ব্যবহারের পরও ব্যাটারির হেলথ ৮০ শতাংশের ওপরে থাকবে (তবে কিছু নির্দিষ্ট বাজারে এটি 7150mAh ব্যাটারি নিয়ে আসতে পারে)।
ভিডিওর ক্ষেত্রে, পেছনের তিনটি ক্যামেরাতেই 4K 120fps এবং 8K 30fps রেজোলিউশনে ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য 'ওপেন গেট ক্যাপচার' (Open Gate Capture) ফিচারও আনা হয়েছে, যার সাহায্যে পোস্ট-এডিটিংয়ের সময় ইচ্ছেমতো ফ্রেম অ্যাডজাস্ট করা যাবে।
ফাইন্ড এক্স১০ প্রো ম্যাক্স-এর লুনা হোয়াইট (Luna White) মডেলের ক্যামেরা মডিউলে ম্যাট সিলভার মেটালিক ফিনিশ, সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং হ্যাসেলব্লাডের সিগনেচার অরেঞ্জ রিং থাকছে। এর ব্যাক প্যানেলে ব্যবহার করা হয়েছে সফট ম্যাট গ্লাস এবং কাপড়ের মতো টেক্সচার ডিজাইন। রেগুলার ফাইন্ড এক্স১০ মডেলটি গ্লেসিয়ার ব্লু, গ্লো কোরাল এবং মিস্ট গ্রে রঙে পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, প্রো ম্যাক্স মডেলটি বাজারে আসবে টাইটানিয়াম গ্রে এবং লুনা হোয়াইট রঙে।
দুটি মডেলই অ্যান্ড্রয়েড ভিত্তিক অপোর নতুন কালারওএস ১৭ (ColorOS 17) অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। এতে থাকা 'AI Mind Pilot with Agent Mode' ফিচারটি ডিভাইসের ফাইল ও ছবিগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঙ্গে যুক্ত করবে। ফলে ভয়েস বা টেক্সট কমান্ডের মাধ্যমেই দ্রুত কাজ সেরে ফেলা যাবে।
বিশ্বজুড়ে অপোর দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হলো ভারত। সাধারণত গ্লোবাল লঞ্চের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অপোর ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো ভারতের বাজারে চলে আসে। তাই অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনের বিকল্প হিসেবে ভারতীয় ক্রেতাদের মধ্যে এই ফোনটি নিয়ে দারুণ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অপো এখনও এই দুটি মডেলের দাম ঘোষণা করেনি। আগামী ২১ অক্টোবর গ্লোবাল লঞ্চ ইভেন্টেই ফোনের সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন, ভারতের বাজারে লঞ্চের তারিখ এবং অফিশিয়াল দাম জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।