
SIM Card Limit: টেলিকম পরিষেবায় জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধ রুখতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকম বিভাগ (DoT)। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে দেশে বাড়তি সিম কার্ড বিক্রির ক্ষেত্রে আরও কড়া প্রযুক্তিগত নজরদারি শুরু হতে চলেছে। নির্দিষ্ট সীমার অতিরিক্ত সিম নিতে গেলেই টেলিকম সংস্থাগুলি আবেদন প্রত্যাখ্যান করবে। আগামী ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে এক কঠোর প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থা। নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, এক জন ব্যক্তির নামে অনুমোদিত সীমার বেশি সিম থাকলে আর কোনো নতুন সংযোগ মিলবে না। টেলিকম কোম্পানিগুলিকে 'ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম' (DIP) ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে গ্রাহকের তথ্য ও ছবি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ভারতের যুগে মোবাইল সংযোগ কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও প্রশাসনিক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তবে এই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে বেড়েছে সাইবার অপরাধ, অনলাইন জালিয়াতি এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো প্রতারণামূলক ঘটনা। এসব অপরাধ রুখতে এবং জাল নথির মাধ্যমে ভুয়ো সিম কার্ডের ব্যবহার বন্ধ করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় টেলিকম বিভাগ (DoT)।
সিম সংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা: একজন গ্রাহক নিজের নামে সর্বোচ্চ ৯টি মোবাইল সিম রাখতে পারবেন। যদিও এই নিয়ম নতুন নয়, ২০১২ সালের নির্দেশিকা অনুসারেই ৯টি সিমের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
সীমাবদ্ধ এলাকা: জম্মু ও কাশ্মীর, আসাম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির জন্য এই সীমা আলাদা। এই সীমান্ত এলাকাগুলিতে একজন ব্যক্তি সর্বাধিক ৬টি সিম রাখতে পারবেন।
সব টেলিকম সংস্থার জন্য কার্যকর: এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন আইডিয়া (Vi) বা বিএসএনএল,প্রতিটি টেলিকম অপারেটরের ক্ষেত্রেই এই মোট সীমা প্রযোজ্য। এটি কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির একক সীমা নয়, সব কোম্পানি মিলিয়ে মোট সিমের সংখ্যা।
নতুন সরকারি নির্দেশ: ১৭ আগস্ট কেন্দ্রের টেলিকম বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সমস্ত টেলিকম সংস্থাকে ২৪ আগস্ট থেকে কড়া কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছবির মাধ্যমে শনাক্তকরণ: ২৩ আগস্ট থেকেই টেলিকম বিভাগের 'ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম' (DIP)-এ নির্ধারিত সীমা স্পর্শ করা গ্রাহকদের ছবি আপলোড করে দেওয়া হবে।
দৈনিক ছবি পরীক্ষা: ২৪ আগস্ট থেকে টেলিকম সংস্থাগুলি প্রতিদিন DIP থেকে এই ছবি বা তথ্য ডাউনলোড করে নতুন সিম প্রত্যাশীদের পরিচয় যাচাই করবে।
সরাসরি প্রত্যাখ্যান: কোনো ব্যক্তি সীমা স্পর্শ করার পর নতুন সিম নিতে এলে সংস্থা গ্রাহককে সরাসরি জানিয়ে দেবে যে, তাঁর নামে অনুমোদিত সীমার সর্বোচ্চ সংখ্যক সিম আগে থেকেই সক্রিয় রয়েছে।
প্রাথমিক ছাড়: শুরুতে রিয়েল-টাইমের বদলে পরদিন (D+1 ভিত্তিতে) এই যাচাই প্রক্রিয়া চালানো যাবে।
তাত্ক্ষণিক বিচ্ছিন্নকরণ: রূপান্তরকালীন এই সময়ে বাড়তি কোনো সিম ভুলবশত অ্যাক্টিভেট হয়ে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ (Suspend) করে দিতে হবে।
৩০ নভেম্বরের ডেডলাইন: আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সমস্ত টেলিকম কোম্পানিকে নতুন সিম বিক্রির সময় সরাসরি ছবি মিলিয়ে দেখার রিয়েল-টাইম সিস্টেম চালু করতেই হবে।
গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা: প্রিপেইড ও পোস্টপেইড: প্রি-পেইড এবং পোস্ট-পেইড, উভয় ধরণের সংযোগের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ফর্ম পূরণে সঠিক তথ্য: নতুন সিমের ফর্ম (Customer Application Form) পূরণের সময় আগের সব সংযোগের সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক।
অতিরিক্ত সংযোগ বাতিল: নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি সংযোগ থাকলে বাড়তি সিমগুলি নিষ্ক্রিয় বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।
গ্রাহকরা কেন্দ্র সরকারের 'সঞ্চার সাথী' পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই নিজের আইডি-তে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে তা দেখে নিতে পারবেন। সাইবার অপরাধ ও 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতারণা রুখতেই টেলিকম মন্ত্রক টেলিকম কোম্পানিগুলির ওপর এই কড়া আইনি ও প্রযুক্তিগত দায়িত্ব অর্পণ করেছে।