Flipcart Operations: পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হরিণঘাটায় রয়েছে তাদের অন্যতম মেগা এবং ভারতের মধ্যে সবথেকে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টার। সাধারণ মানুষকে বিষয়টা বোঝাতে, ই-কমার্সের সেই পিছনের গল্প তথা আঁতুড়ঘরকে ঘুরে দেখল এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। ২৪*৭, লাগাতার চলছে সেই কাজ। আর উৎসবের মরশুমে তো চাপ আরও বেশি (Flipkart Fulfillment Center)।
Flipcart Operations: একটি মাত্র ক্লিকে ঘরে বসেই অর্ডার। যেকোনও প্রোডাক্ট, যে কোনও সময়ে অর্ডার করার সুবিধা আপনার স্মার্টফনেই। তারপর অ্যাড টু কার্ট অপশন এবং পেমেন্টের বিষয়। পিনকোড ও ঠিকানা কনফার্ম করলেই আপনার বাড়িতে পছন্দের সেই প্রোডাক্ট পৌঁছে যাবে সঠিক সময়ে। গ্রাহকদের কাছে বিষয়টা খুবই সহজ। কিন্তু তার পিছনে রয়েছে বিরাট কর্মযজ্ঞ। হাই লেভেল অপারেশনস (Flipcart Operations)। ব্যাকএন্ড এবং লজিস্টিকস অপারেশনস, টেকনোলজি এবং অটোমেশন! গোটা ই-কমার্স ইকোসিস্টেমে যারা কার্যত, নতুন ইতিহাস তৈরি করছে, ফ্লিপকার্ট। ভারতের অন্যতম সেরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হরিণঘাটায় রয়েছে তাদের অন্যতম মেগা এবং ভারতের মধ্যে সবথেকে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টার। সাধারণ মানুষকে বিষয়টা বোঝাতে, ই-কমার্সের সেই পিছনের গল্প তথা আঁতুড়ঘরকে ঘুরে দেখল এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। ২৪*৭, লাগাতার চলছে সেই কাজ। আর উৎসবের মরশুমে তো চাপ আরও বেশি (Flipkart Fulfillment Center)।

প্রথমে সেলারদের কাছে থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে আসেন ডেলিভারি পার্টনাররা। জমা হয় এই হাবে। তারপর লেবেলিং হয়ে তা কোয়ালিটি চেকের পর অটোমেটিক মেশিনের মাধ্যমে তা স্টোরেজ হয়। নতুন প্রোডাক্ট এলে আবার সেগুলির দৈর্ঘ্য-প্রস্থ-উচ্চতা মাপারও কাজ থাকে। প্রত্যেকটি ক্যাটেগরির জন্য আলাদা আলাদা কোড নম্বর রয়েছে। এরপর প্যাকেজিং এবং আউটবাউন্ড ডিসপ্যাচের জন্য রয়েছে আলাদা সেকশন। মোট ১৮টি স্পাইলার মেশিনের মাধ্যমে প্রোডাক্টগুলি বিভিন্ন ফ্লোরে গিয়ে স্টোর হয়। শুধু তাই নয়, পিনকোড অনুযায়ী প্রোডাক্টকে আলাদা আলাদা করার জন্য অটোমেটেড সিস্টেম রয়েছে হরিণঘাটার এই ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে। সেইসঙ্গে, এখানে কাজ করছেন হাজার হাজার কর্মী। রাজ্যের ছেলেমেয়েরাও যেমন আছে, তেমন আছে বাইরেরও। অর্থাৎ, অটোমেটিক সিস্টেম যেমন আছে, সেইরকমই বিরাট সংখ্যায় কর্মসংস্থানেরও ঠিকানা হল ফ্লিপকার্ট।
হরিণঘাটায় দেশের সবথেকে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টার

দেশে ডিজিটাল টেকনোলোজি এগিয়ে চলেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে ই-কমার্সের ব্যবহার। লোকজন আজকাল ফোনের স্ক্রিনে জিনিস দেখেই পছন্দ করে কিনে ফেলছেন। আর কী চাই? পুরো দোকানটাই তো হাতের মুঠোয়। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুরো টেকনিক্যাল সাপোর্টটি বেঙ্গালুরু হেডকোয়ার্টার থেকে অপারেট হয়ে থাকে। ফলে, সিস্টেম নেটওয়ার্কিং-এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যায় কয়েক মিনিটে। এই মুহূর্তে ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস হিসেবে ফ্লিপকার্ট সমস্ত ফ্যাশন প্রোডাক্টের উপর জিরো কমিশন চালু করেছে। আর এই জিরো কমিশনের ফলে, ফ্যাশন ক্যাটাগরির প্রায় ৯০ হাজার লেনদেনকারী বিক্রেতা, যাদের মধ্যে এমএসএমই (MSME) এবং ডি২সি (D2C) ব্র্যান্ডও রয়েছে, এখন অতিরিক্ত মার্জিন তারা ধরে রাখতে পারবেন। সেলার ড্যাশবোর্ডে থাকা এআই-পরিচালিত ডিম্যান্ড ইনসাইটস, ট্রেন্ড ডেটা এবং ক্যাটালগ ম্যানেজমেন্ট টুলের সাহায্যে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই প্রোডাক্টের পরিসর বৃদ্ধি করতে বৃহত্তর কনজিউমার পরিষেবা দিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্র্যান্ড-বিল্ডিংয়ের উপর অনেক বেশি করে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

অন্যদিকে, ফ্লিপকার্ট বা যেকোনও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে সবথেকে বেশি কেনাকাটা করে থাকে জেন-জি বা কমবয়সী ছেলেমেয়েরা। তারা কিন্তু অনেক বেশি সময় স্ক্রিন টাইমে ব্যবহার করে। তাই বিজ্ঞাপনদাতারাও আজকাল ফ্লিপকার্টের মতো মার্কেটপ্লেসকে বেছে নিচ্ছেন। ফলে, বিরাট অঙ্কের অর্থের বিনিয়োগও আসছে। ফ্লিপকার্ট আসলে এমন একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চাইছে, যা সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলিকেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করে। বিক্রেতারা যখন তাদের পণ্যের সম্ভার বাড়ান, তখন গ্রাহকরাও নানা ধরনের পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি তারা দ্রুত নতুন সমস্ত ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিতও হতে পারেন এবং প্রিমিয়াম ফ্যাশনসহ বিভিন্ন দামের প্রোডাক্ট সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যেতে পারেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের ফ্যাশন ব্যবহারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ‘জেন-জি’ (Gen Z)—যারা বর্তমানে ফ্লিপকার্ট ফ্যাশনের গ্রাহকগোষ্ঠীর প্রায় ৫০% বলে জানাচ্ছে রিপোর্ট।

ব্যাপক কর্মসংস্থান, অটোমেশন-টেকনোলজির সমন্বয়ে তাক লাগাচ্ছে ফ্লিপকার্ট
ইতিমধ্যেই বিগ বিলিয়ন ডে-কে কেন্দ্র করে ইকার্ট তাদের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, তা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। গোটা দেশে ইকার্ট এই মুহূর্তে ১৪ মিলিয়ন কিউবিক ফুট অতিরিক্ত ওয়্যারহাউসিংয়ের জায়গা যুক্ত করেছে। যার ফলে, তাদের প্রোডাক্ট সংরক্ষণের সক্ষমতা ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি এবং অটোমেশন ব্যবস্থার উন্নতির জেরে সর্বোচ্চ কর্মব্যস্ত সময়েও প্রোডাক্ট প্রক্রিয়াজাতকরণ তথা প্যাকেজিং-এর সক্ষমতাও ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে। সমগ্র দেশে গ্রাহকদের দ্রুত প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়ার চাহিদা মেটাতে, উৎসবের মরশুমে 'লাস্ট-মাইল ডেলিভারি'র পরিধি বৃদ্ধি করতে এবং একইদিনে বা পরেরদিনই সেই প্রোডাক্ট পৌঁছে দেওয়ার সংখ্যা আরও বাড়াতে অতিরিক্ত ৯০০-এরও বেশি ডেলিভারি হাব যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশের অন্যতম সেরা ই-কমার্স জায়ান্ট ফ্লিপকার্ট। এমনিতেই সারা দেশে ৮,২০০-এরও বেশি সেন্টার রয়েছে ইকার্টের। তার মধ্যে আছে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, সর্টেশন হাব এবং লাস্ট-মাইল ডেলিভারি সেন্টার। সেগুলির পাশাপাশি ১৫০টিরও বেশি শহরে প্রায় ১,২০০টি 'ফ্লিপকার্ট মিনিটস' মাইক্রো-ফুলফিলমেন্ট সেন্টারও যুক্ত করা হয়েছে সংস্থার তরফ থেকে।
প্রোডাক্ট সরবরাহের সময় কমানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত ৭০টি পিক-আপ স্টেশন চালু করা হয়েছে। উৎসবের মরশুমে ফ্লিপকার্ট মার্কেটপ্লেসের বাইরের বিক্রেতা এবং এমএসএমই-রাও যাতে তাদের ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পারে এবং সারা দেশের গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ইকার্টের ৩পিএল (3PL) ফ্র্যাঞ্চাইজির সংখ্যা চালুর মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দ্বিগুণ হয়ে তা ৬০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ভারত জুড়ে আরও বেশি জায়গায় ‘দ্য বিগ বিলিয়ন ডেজ’ এবং উৎসবের কেনাকাটা পৌঁছে দিতে, ইকার্ট ফ্লিপকার্টের আওতায় ৭৫০টিরও বেশি নতুন পিন কোড যুক্ত করেছে। তার মধ্যে রয়েছে লাদাখের লেহ, জম্মু-কাশ্মীরের কার্গিল, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন এলাকা, যেমন মিজোরামের কমলানগর ও জামুয়াং। পাশাপাশি মেঘালয়ের তুরাসিটি, রেসুবেলপাড়া ও রাজাবালা এবং অরুণাচল প্রদেশের বোমডিলা ও তেজু।

প্রত্যেক উইশমাস্টার তথা ডেলিভারি পার্টনাররা টার্ম লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট কভার এবং মেডিক্লেইম সুবিধার আওতায় থাকেন। আর প্রতিটি উৎসবের মরশুমে এই কভারেজের স্তর ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে। ফ্লিপকার্ট একটি ‘ডক্টর অন কল’ পরিষেবাও চালু করেছে, যা উইশমাস্টার এবং তাদের পরিবার যেকোনও সময় ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া বোনাসের ব্যবস্থাও রয়েছে। Flipkart Delivery Partners অ্যাপের মাধ্যমে AI-চালিত ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ যাচাই এবং প্রোটোকলের সঙ্গে আপোস না করেই অনবোর্ডিং প্রক্রিয়াকে ১০ মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করে থাকে। এমনকি, এই উৎসবের মরশুমে আড়াই লক্ষেরও বেশি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে ফ্লিপকার্ট। তার মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী প্রথমবারের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন। নতুন কর্মসংস্থানের ৬০ শতাংশই ‘লাস্ট-মাইল ডেলিভারি’ বা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে। যা দ্রুত ডেলিভারি এবং টায়ার-২ ও টায়ার-৩ বাজারগুলিতে ‘ফ্লিপকার্ট মিনিটস’-এর সম্প্রসারণের উপর কোম্পানির বিশেষ গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করছে।
অন্যতম বৃহত্তম ডিজিটাল কমার্স সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক
আর এই পুরো অপারেশনসের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় ফুলফিলমেন্ট সেন্টারটি। সাপ্লাই চেইন পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সেলার ইকোসিস্টেমে আরও বেশি করে বিনিয়োগকেই জোরদার করছে। পশ্চিমবঙ্গের বুকে ফ্লিপকার্টের বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরিঘাটা ক্যাম্পাস। যেখানে সংস্থাটির বৃহত্তম ফুলফিলমেন্ট সেন্টারটি অবস্থিত। মোট ৬টি মেজানাইন স্তর (mezzanine levels) জুড়ে বিস্তৃত ৫০ লক্ষ ঘনফুট স্টোরেজ সম্পন্ন এই কেন্দ্রটি দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক লজিস্টিকস হাব। বলা চলে, ডিজিটাল ই-কমার্সের শক্তিশালী কেন্দ্র। এটি হল ভারতের প্রথম এমন একটি বিশাল আকারের ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট সেন্টার যা 'ইন্ডিয়ান গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল'-এর 'প্ল্যাটিনাম' স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্বয়ংক্রিয় স্টোরেজ-রিট্রিভাল সিস্টেম, রোবোটিক প্যাকেজিং আর্ম, ক্রস-বেল্ট সর্টার এবং নয় কিলোমিটার দীর্ঘ কনভেয়র নেটওয়ার্কের মতো উন্নত প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই কেন্দ্রটি কাজের গতি, দক্ষতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্বও বৃদ্ধি করছে। একইসঙ্গে, ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস হাব হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থানকেও এটি আরও সুদৃঢ় করে তুলছে।
![]()
হরিণঘাটার বাইরেও ফ্লিপকার্ট রাজ্যে অন্যতম বৃহত্তম ডিজিটাল কমার্স সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তার আওতায় সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ৩০০টিরও বেশি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, মাদার হাব এবং লাস্ট-মাইল ডেলিভারি সেন্টার রয়েছে। এই সামগ্রিক পরিকাঠামোটি অপারেশনস, প্রযুক্তি, ডেলিভারি এবং সহায়তা পরিষেবার ক্ষেত্রে ১.২ লক্ষেরও বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে। ‘কুইক কমার্স’ বা দ্রুত পণ্য সরবরাহের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে, ফ্লিপকার্ট মিনিটস (Flipkart Minutes) রাজ্যজুড়ে ৯০টি মাইক্রো ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করেছে। যার মাধ্যমে প্রায় ১০,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কোম্পানিটির পণ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাপনায় পশ্চিমবঙ্গের বহু ক্ষুদ্র কৃষকও যুক্ত রয়েছেন। এটি একদিকে যেমন তাজা ফল এবং শাকসবজির বাজারজাতকরণকে সহজতর করে তুলেছে, তেমনই কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য আয়ের নতুন সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সেলাররাই রাজ্যের ডিজিটাল বাণিজ্য প্রসারের প্রধান চালিকাশক্তি। বর্তমানে রাজ্যের ৬৬,০০০-এরও বেশি বিক্রেতা ফ্লিপকার্টের (Flipkart) মাধ্যমে সারা ভারতের গ্রাহকদের কাছে তাদের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন। এই প্রোডাক্টগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন—যেমন ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক পোশাক থেকে শুরু করে গৃহসজ্জার সামগ্রী, জুতো এবং হস্তশিল্পজাত পণ্য। 'ফ্লিপকার্ট সমর্থ' (Flipkart Samarth)-এর মাধ্যমে রাজ্যের তাঁতি ও কারুশিল্পীদের প্রায় ২৯,০০০ পণ্য একটি বিশেষ অনলাইন স্টোরফ্রন্টে প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন বাংলার সমৃদ্ধ কারুশিল্পের ঐতিহ্যকে রক্ষা করছে, ঠিক তেমনই জাতীয় বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগও তৈরি করে দিচ্ছে। শুধুমাত্র শান্তিপুরেই ২৫০-এরও বেশি তাঁত ও জামদানি শিল্পী এবং বিক্রেতা এখন সারা দেশের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে, বছরে ১০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রোডাক্ট বিক্রি করছেন তারা।
পাশাপাশি, ফ্লিপকার্ট পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করছে। পশ্চিমবঙ্গ সোসাইটি ফর স্কিল ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কোম্পানিটি স্থানীয় যুবকদের ওয়্যারহাউসিং এবং সাপ্লাই চেইন পরিচালনার মতো শিল্প-উপযোগী দক্ষতা প্রদান করছে। সেইসঙ্গে, ফ্লিপকার্টের বিভিন্ন কেন্দ্রে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগও আছে। এই উদ্যোগটি ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল বাণিজ্য খাতের জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজ্যের যুবকদের জন্য অর্থবহ একটি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করছে।
ভবিষ্যত বলছে, ফ্লিপকার্ট পশ্চিমবঙ্গকে শুধুমাত্র একটি বাজার হিসেবে নয়। বরং, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটি কৌশলগত প্রবৃদ্ধি-অংশীদার হিসেবেই বিবেচনা করছে। উদ্যোক্তা-সুলভ প্রতিভা, শক্তিশালী উৎপাদন-ভিত্তি, কারুশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সুবাদে ভারতের ডিজিটাল বাণিজ্যের যাত্রাপথের পরবর্তী পর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য এই রাজ্যটি অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলেই মনে করছে ফ্লিপকার্ট।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।