
হোয়াটসঅ্যাপে এখন নতুন আতঙ্ক। কোনও OTP দিতে হচ্ছে না, কোনও অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করতে হচ্ছে না, শুধু 'No' লিখে রিপ্লাই করলেই মুহূর্তে খালি হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনটাই ঘটছে দেশজুড়ে। এই নতুন সাইবার জালিয়াতি নিয়ে এবার সরাসরি সতর্ক করল হায়দরাবাদ পুলিশ।
সম্প্রতি হায়দরাবাদ সিটি পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার নিজের X হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে এই প্রতারণা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি জানান, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মতো শিক্ষিত পেশাদারও এই ফাঁদে পড়ে তাঁর সমস্ত সঞ্চয় খুইয়েছেন। তাই সাধারণ মানুষের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রতারকরা প্রথমে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ পাঠায়, যেটা দেখতে একদম ব্যাঙ্কের অফিসিয়াল মেসেজের মতো। সেখানে লেখা থাকে, "আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে Rs. 49,999 ডেবিট করা হয়েছে"। সঙ্গে একটি ট্রানজাকশন আইডিও দেওয়া থাকে যাতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়।
এর ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরেই দ্বিতীয় মেসেজ আসে - "যদি এই লেনদেনটি আপনি না করে থাকেন, তাহলে সুরক্ষার জন্য এখনই NO লিখে রিপ্লাই করুন, না হলে টাকা কেটে যাবে।"
এই মেসেজটাই আসল ফাঁদ। টাকা কাটার ভয়ে মানুষ তাড়াহুড়ো করে NO লিখে ফেলে। কমিশনারের মতে, এটিকে বলা হচ্ছে "Auto-Execution File Attack"। আপনার NO লেখার সঙ্গে সঙ্গেই চ্যাটে আগে থেকে লুকিয়ে রাখা একটি ক্ষতিকারক ফাইল বা ম্যালওয়্যার স্ক্রিপ্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে যায়। এটি আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, SMS, কন্ট্যাক্ট সবকিছুর অ্যাক্সেস পেয়ে যায় হ্যাকাররা। তারপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট খালি।
আগের প্রতারণাগুলোতে OTP চাওয়া হত বা লিঙ্কে ক্লিক করানো হত, মানুষ সচেতন হলে বাঁচতে পারত। কিন্তু এখানে আপনাকে কিছুই দিতে হচ্ছে না। শুধু রিপ্লাই করাটাই বিপদ ডেকে আনছে। আর মেসেজগুলো এতটাই আতঙ্ক তৈরি করে যে, যাচাই করার সময়টুকুও পাওয়া যায় না।
হায়দরাবাদ পুলিশের তরফে কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. *রিপ্লাই করবেন না:* অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত মেসেজে কখনও YES বা NO লিখবেন না। মনে রাখবেন, কোনও বৈধ ব্যাঙ্ক কখনও হোয়াটসঅ্যাপে YES/NO লিখে ট্রানজাকশন ভেরিফাই করতে বলে না।
২. *ব্লক ও ডিলিট:* এমন মেসেজ পেলেই আতঙ্কিত হবেন না। সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটি ব্লক করুন, রিপোর্ট করুন এবং চ্যাট ডিলিট করে দিন।
৩. *নিজে যাচাই করুন:* মেসেজের তথ্য বিশ্বাস না করে নিজের অফিসিয়াল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ বা নেট ব্যাঙ্কিং খুলে ব্যালেন্স চেক করুন। প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক কার্ডের পিছনে থাকা ভেরিফায়েড কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করুন।
৪. *ফাইল থেকে সাবধান:* অচেনা নম্বর থেকে আসা কোনও ছবি, PDF, APK ফাইল ভুলেও ডাউনলোড করবেন না।
যদি ভুল করে রিপ্লাই দিয়ে ফেলেন বা টাকা কেটে যায়, তাহলে এক মিনিটও দেরি না করে ভারতের জাতীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর 1930-এ ফোন করুন এবং http://cybercrime.gov.in পোর্টালে অভিযোগ জানান। যত দ্রুত জানাবেন, টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।