
Qamile Marra: বয়স শুধুই একটি সংখ্যা, এই পুরোনো প্রবাদটা যেন আলবেনিয়ার এক পাহাড়ি গ্রামে একেবারে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। বয়স ১১৭ ছুঁয়েছে, কিন্তু জীবনের প্রতি বিন্দুমাত্র অনীহা নেই কামিল মাররার। মনে করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত মহিলা এখন তিনিই। যদিও খাতায়-কলমে সে কথা প্রমাণের বা বিশ্বমঞ্চে নাম তোলার ব্যাপারে তাঁর নিজের কোনো মাথা ব্যথাই নেই। এমনকি তিনি যে এখনও বেঁচে আছেন, তা নিয়ে সরকারি বাবুদের সঙ্গে তর্ক জুড়তেও তিনি নারাজ।
তিরানা থেকে প্রায় একশো কিলোমিটার দূরে 'ফেরাস' নামের একটি ছোট্ট গ্রামে কেটেছে তাঁর গোটা জীবন। উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের সূর্য যখন অস্তমিত হচ্ছে, তখন ১৯০৯ সালের ১৯ আগস্ট জন্ম তাঁর। ফলে বিশ্বরাজনীতির কত ভাঙাগড়া, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা আর আলবেনিয়ার দীর্ঘ একনায়কতন্ত্রের উত্থান-পতন সবই তিনি দেখেছেন নিজের চোখে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দিন পনেরো আগে তাঁর ৩৬ বছর পূর্ণ হয়েছিল। সময়ের বহু পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু কামিল নিজের গ্রাম ছেড়ে কোথাও যাননি।
দেখুন ভিডিও
🇦🇱 Still smiling at 117, Albanian may be world's oldest woman
At 117, Qamile Marra is not particularly concerned with proving she may be the world's oldest woman, but official documents suggest she is two days older than Ethel Caterham, recognised by Guinness World Records as the world's oldest living woman.
— AFP News Agency (@AFP) October 21, 2026
কী বলছেন তিনি
বাড়ির চারপাশে ফলদ গাছের ছায়ায়, নিজস্ব জমিতে ফসল বুনে আর গবাদিপশু সামলেই কেটেছে তাঁর শতবর্ষের জীবন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামিলের মুখে ফুটে উঠেছিল এক আশ্চর্য প্রশান্তি। ঐতিহ্যবাহী সাদা স্কার্ফে ঢাকা বলিরেখাময় মুখটিতে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ''ফুলে ভরা তোমোর পর্বতের মতোই তো এই জীবনটা সুন্দর!'' বলে রাখা ভালো, তোমোর আলবেনিয়ার অন্যতম এক উঁচু পর্বতশৃঙ্গ। জীবনের চিরন্তন সত্য মেনে নিয়ে তাঁর সংযোজন, ''ঈশ্বর যতদিন বরাদ্দ করেছেন, মানুষ ততদিনই তো বাঁচবে।''
রয়েছে প্রমাণ
সরকারি নথি অনুযায়ী তাঁর বয়স ব্রিটেনের ইথেল ক্যাটারহ্যামের চেয়ে ঠিক দু'দিনের বড়। বর্তমানে ইথেলকেই 'গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস' বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত মহিলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কামিলের বাড়িতে রয়েছে ১৯৪৫ সালের বার্থ সার্টিফিকেট, ১৯৭৮ সালের পাসপোর্ট এবং সাম্প্রতিক পরিচয়পত্র। যা তাঁর ১১৭ বছর বয়সের জলজ্যান্ত প্রমাণ দেয়।
বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পেনশন
বয়সের এই হিসাব নিয়ে অবশ্য অতীতে এক অদ্ভুত বিপত্তিও তৈরি হয়েছিল। বয়স যখন একশো ছুঁয়েছিল, তখন স্থানীয় প্রশাসন ধরে নিয়েছিল তিনি নিশ্চয়ই আর বেঁচে নেই! আর তাই তাঁর পেনশনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁর ৮০ বছরের ছেলে হিসেনকে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও নথিপত্র পেশ করে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে, তাঁর মা বহাল তবিয়তে বেঁচে আছেন। আত্মীয়রা এখন গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বটে, তবে কামিলের কাছে এই স্বীকৃতি একেবারেই অর্থহীন। বয়স প্রমাণের জটিলতা কিংবা আমলাতান্ত্রিক খাতাপত্রকে একপাশে সরিয়ে রেখে তিনি এখনও প্রতিটা দিন কাটাচ্ছেন পরম আনন্দে ও গভীর সন্তুষ্টিতে।