
Beggar Woman Cash Gunny Bags: পরতেন ছেঁড়া কাপড়। মুখে দৈন্যের ছাপ স্পষ্ট। পথচলতি মানুষের কাছে হাত পেতেই বেঁচে থাকতেন। কর্ণাটকের মান্ডিয়া জেলার বাসিন্দাদের কাছে এটাই ছিল ৬৮ বছরের বৃদ্ধা নূরের চেনা পরিচিতি। সারাজীবন অর্থাভাবের চরম দারিদ্র্য আর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়েই দিন কাটিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে মেটাতেন প্রতিদিনের খিদের জ্বালা। কিন্তু সেই নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার মৃত্যুর পর যা সামনে এল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ পুরো মান্ডিয়াবাসীর। জরাজীর্ণ এক কামরার ঘরে উদ্ধার হলো বস্তা বস্তা খুচরো পয়সা আর বান্ডিল বান্ডিল নগদ টাকা।
সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বৃদ্ধা নূর। মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রতিবেশীরা যখন তাঁর ঘরে ঢোকেন এবং ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করেন, তখনই ঘটে সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঘরের এক অন্ধকার কোণে সারি সারি পাটের বস্তা রাখা দেখে সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। সেই বস্তাগুলির মুখ খুলতেই ভেসে ওঠে অভাবনীয় দৃশ্য। একাধিক পাটের বস্তা কানায় কানায় ভর্তি কাঁচা টাকায়! তার মধ্যে যেমন রয়েছে অসংখ্য খুচরো কয়েন, তেমনই রয়েছে বহু নগদ টাকার বান্ডিল।
দেখুন ভিডিও
SHOCKING: Locals in Mandya were stunned after reportedly finding gunny bags filled with cash and coins inside the home of Noor, a 68-year-old woman who allegedly lived by begging.
She had recently passed away. Some of the money was reportedly donated to a mosque. pic.twitter.com/lyrXT133RV— Ghar Ke Kalesh (@gharkekalesh) August 24, 2026
বিপুল পরিমাণ গুপ্তধন উদ্ধার
অতি সাধারণ এক ভিক্ষুকের ঘরে এত বিপুল পরিমাণ গুপ্তধন দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন পাড়া-পড়শীরা। জীবনযাত্রায় কখনও কোনও ধনসম্পদের ইঙ্গিত তো দূরের কথা, নূন্যতম স্বাচ্ছন্দ্যেরও ছাপ রাখেননি নূর। বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সাবধানে ও গোপনে ভিক্ষার প্রতিটা টাকা এবং পয়সা এভাবে পাটের বস্তায় জমিয়ে রেখেই যে তিনি এই বিশাল সঞ্চয় গড়ে তুলেছিলেন, তা ভাবতেও পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নূরের বাড়ির সামনে জমে যায় কৌতুহলী মানুষের ভিড়। এক জন ভবঘুরে ভিক্ষুক কীভাবে নিজের অদম্য কৃচ্ছ্রসাধনে এত টাকা জমিয়ে ফেললেন, তা নিয়ে বর্তমানে জোর জল্পনা চলছে জেলা জুড়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও কয়েনের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যেই সম্মানের সাথে এলাকার একটি মসজিদে দান করে দেওয়া হয়েছে। তবে এক নিঃস্ব ভিক্ষুকের জীবনাবসানের পর এই গুপ্তধনের রূপকথা এখন মান্ডিয়ার অলিতে-গলিতে এক অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।