মৃতের হাড়ের ছাই কলার স্যুপে মিশিয়ে খান! এই উপজাতির শেষকৃত্যের রীতি জানলে অবাক হবেন

Published : Sep 25, 2026, 06:38 PM IST
Yanomami tribe of the Amazon rainforest in Brazil and Venezuela practices a traditional funeral ritual of endocannibalism

সংক্ষিপ্ত

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের রীতি একেক সমাজে একেক রকম। কোথাও মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়, কোথাও আবার দাহ করা হয়। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলে বসবাসকারী ইয়ানোমামি (Yanomami) উপজাতির শেষকৃত্যের একটি রীতি শুনলে অনেকেরই অবাক লাগতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের রীতি একেক সমাজে একেক রকম। কোথাও মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়, কোথাও আবার দাহ করা হয়। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলে বসবাসকারী ইয়ানোমামি (Yanomami) উপজাতির শেষকৃত্যের একটি রীতি শুনলে অনেকেরই অবাক লাগতে পারে। মৃতের দেহ দাহ করার পর অবশিষ্ট হাড় ও ছাইকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে পরে তা একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করার রীতি রয়েছে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে।

ব্রাজিল ও ভেনেজুয়েলার আমাজন অঞ্চলে ইয়ানোমামি জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাঁদের কাছে শেষকৃত্য শুধুমাত্র মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মৃত্যু, আত্মা এবং প্রিয়জনকে শেষ বিদায় জানানোর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস।

কীভাবে হয় এই শেষকৃত্য?

মৃত ব্যক্তির দেহ দাহ করার পর অবশিষ্ট হাড় সংগ্রহ করা হয়। সেই হাড়কে গুঁড়ো করে ছাইয়ের সঙ্গে মেশানো হয়। এরপর শেষকৃত্য সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সেই ছাইয়ের কিছু অংশ কলা দিয়ে তৈরি একটি ঐতিহ্যবাহী স্যুপের সঙ্গে মিশিয়ে উপস্থিত সদস্যরা গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানকে ইয়ানোমামি সমাজে ‘রেহু’ নামে উল্লেখ করা হয়। এটি কোনও সাধারণ খাবার খাওয়ার রীতি নয়। বরং শোক ও শেষ বিদায়ের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কেন মৃতের ছাই গ্রহণ করেন তাঁরা?

ইয়ানোমামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর শুধু দেহের শেষকৃত্য করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মৃত ব্যক্তির আত্মাকে জীবিতদের জগত থেকে আলাদা করে তার পরবর্তী যাত্রার জন্য বিদায় জানানোও শেষকৃত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৃত ব্যক্তির দেহ বা তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণ করে রাখার রীতি তাঁদের সমাজে সাধারণ নয়। শেষকৃত্যের পর মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বস্তু নষ্ট করে দেওয়া হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও পরবর্তীকালে উচ্চারণ করা এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের বিশ্বাসে শেষ বিদায়ের অর্থ হল মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত পার্থিব বিষয়গুলিকে পিছনে ফেলে দেওয়া।

শোক প্রকাশের রীতিও আলাদা

ইয়ানোমামি সমাজে শেষকৃত্যের সময় কান্না, গান এবং সমবেতভাবে শোক প্রকাশের মতো বিভিন্ন রীতি রয়েছে। মৃতদেহ দাহ করা এই গোটা প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের বিশ্বাসে মৃত ব্যক্তির যথাযথ শেষকৃত্য না করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এমনকি সংঘর্ষ বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও নিজেদের সম্প্রদায়ের মৃতদের দেহ ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শত্রুর হাতে মৃত্যু হলে কী হয়?

কোনও ব্যক্তি শত্রুর হাতে নিহত হলে শেষকৃত্যের সঙ্গে প্রতিশোধের বিষয়টিও ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত। এমন ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট রীতির মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে বিদায় জানানো হত এবং পরে হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার প্রথাও ছিল। তবে মৃতের ছাই গ্রহণের বিষয়টি ইয়ানোমামি সমাজের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস নয়। এটি মূলত মৃত্যু, শোক এবং প্রিয়জনকে শেষবারের মতো সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাত্ম করার সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক রীতি।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Viral Video: তিস্তার স্রোতে ভেসে যাচ্ছে হস্তি শাবক! উদ্ধারের সেই ভিডিও দেখুন
Gwalior Shocker: বিহারের পর এবার মধ্যপ্রদেশে নারী নিগ্রহ! কোচিং ফেরত ছাত্রীদের হামলা, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল নির্মম দৃশ্য