
বরফে ঢাকা আন্দিজ পর্বতের চূড়ায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা এক অবিশ্বাস্য আবিষ্কার করেছেন। প্রায় ৫০০ বছর আগে মারা যাওয়া ইনকা সভ্যতার এক কিশোরীর মমি খুঁজে পাওয়া গেছে, যার শরীরের প্রায় সব অংশ আজও একেবারে অক্ষত। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের রীতিমতো চমকে দিয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালার (Andes Mountains) জীবন্ত আগ্নেয়গিরি আর কনকনে ঠান্ডা বরফের স্তরের নিচ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি করেছেন। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মমিটি 'ইনকা সভ্যতা' (Inca Civilization)-র বিভিন্ন রীতি-নীতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের এক জীবন্ত দলিল।
সাধারণত বহু পুরনো মমির শুধু চামড়া বা হাড়গোড়ই পাওয়া যায়। কিন্তু আন্দিজ পর্বতের প্রচণ্ড ঠান্ডা আর শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে:
ইনকা সংস্কৃতিতে পাহাড়কে দেবতা হিসেবে পুজো করা হত। খরা, আগ্নেয়গিরির লাভা উদগীরণ বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেবতাকে শান্ত করার জন্য 'ক্যাপাকোচা' (Capacocha) নামে এক পবিত্র প্রথা পালন করা হত।
এই ধর্মীয় আচারের জন্য সবচেয়ে সুন্দর এবং নিষ্পাপ শিশুদের বেছে নেওয়া হত। মেয়েটিকে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার আগে কোকা পাতা (Coca Leaves) এবং এক ধরনের মদ (Chicha) খাওয়ানো হত। এর ফলে সে যন্ত্রণা ছাড়াই গভীর ঘুমে ঢলে পড়ত। এরপর তাকে বরফের গুহায় দেবতার উদ্দেশে উৎসর্গ করে সমাধিস্থ করা হত।
"সম্প্রতি পোল্যান্ড ও পেরুর প্রত্নতাত্ত্বিক বিজ্ঞানীরা এবং সুইডেনের বিখ্যাত ভাস্কর অস্কার নিলসন (Oscar Nilsson) একসঙ্গে সিটি স্ক্যান, ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা এবং 3D প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫০০ বছর আগে বলি হওয়া 'জুয়ানিটা' (Juanita) নামের ওই ইনকা কিশোরীর মুখটিকে জীবন্ত অবস্থায় ফুটিয়ে তুলেছেন (3D Facial Reconstruction)।"
"এই 3D মুখটা দেখলে মনে হয়, ৫০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ইনকা সভ্যতার একটি শিশু সরাসরি আমাদের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।"
— গবেষক দল
বর্তমানে এই বিরল মমি এবং তার সঙ্গে পাওয়া সোনা-রুপোর মূর্তি ও মাটির পাত্রগুলো একটি মিউজিয়ামে খুব কম তাপমাত্রায় (Minus Degree) সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। এটি শুধু একটি মমি নয়, বরং মানব ইতিহাসের অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাস ও আচারের এক বিস্ময়কর দলিল, যা আজ গোটা বিশ্বের সামনে এসেছে।