
সোনারপুরের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উপর জনরোষের ঘটনায় মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সবাইকে হিংসা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতির স্পষ্ট বার্তা, ঘটনায় দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের জনরোষ। এই প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের সময়ের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। অতীতের ঘটনা মনে করে দিয়ে তিনি তৃণমূলকে নৈতিকতার পাঠ দিয়েছেন।
ভোট-পরবর্তী হিংসায় সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের দেখতে শনিবার বিকেলে সোনারপুর যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। পথে কামালগাছির কাছে তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখান অনেকে। তা উপেক্ষা করেই অভিষেক গাড়ি করে পৌঁছে যান তাঁর গন্তব্যের উদ্দেশে। কিন্তু প্রবল বিক্ষোভের মুখে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। এর পরে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে চড়ে দলীয় কর্মীর বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁকে ঘিরে ফেলেন অনেকে। জনরোষের জেরে বাইকেও গন্তব্যে যেতে পারেননি অভিষেক। শেষমেশ তিনি হেঁটে যাওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন। তখনই তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা। এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় অভিষেকের মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের সাদা রঙের শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। সেই অবস্থাতেই কোনওক্রমে তিনি নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন। দেখা করেন তাঁর মা-বাবার সঙ্গে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা অবশেষে বার করেন অভিষেককে। দুই বাহিনীর প্রহরায় তাঁকে সোনারপুরের দলীয় কর্মীর বাড়ি থেকে বার করা হয়। ওই সময়েও তাঁর পিছন পিছন এগোতে থাকে একদল উত্তেজিত জনতা। তার মধ্যেই কোনও রকমে উদ্ধার করা হয় অভিষেককে।
গোটা ঘটনায় বিজেপির দিকে আঙুল উঠেছে। যদিও এই ঘটনায় বিজেপির কেউ যুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন শমীক। তাঁর দাবি, জনরোষ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি সাংসদ বলেন, "আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের উপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের উপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদরা এখনও এই অবস্থায় আছেন। অন্য কোনও দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না। কীসের ডায়মন্ড হারবার মডেল? কেন ফলতায় প্রচারে আসেননি?" পুলিশ না থাকার অভিযোগ করেন অভিষেক। পাল্টা শমীক বলেন, " পুলিশ কেন নেই, সেটা তো আমি বলতে পারি না। আমি তো দলের প্রতিনিধি। সেটা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বলতে পারবে।"
তৃণমূল সরকারের জমানার বেশ কিছু ‘উদাহরণ’ও তুলে ধরেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। অতীতে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন উত্তরবঙ্গে তাঁকে গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, "বিজেপি এগুলো সমর্থন করে না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় না এলে এখানে আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না৷ আমাদের বিরোধী দলনেতাকে উত্তর বঙ্গে পুরিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল৷ মহিলাদের মাথা ন্যাড়া করে থুথু চাটানো হয়। নখ উপড়ে নেওয়া হয়৷ সেগুলো কভার করুন জানতে পারবেন।"
সোনারপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও অসভ্যতার তীব্র প্রতিবাদ করছি। নিরাপত্তা তুলে নিয়ে হামলার জের আমরা রাজীব গান্ধীর সময়ে দেখেছি। আবার একই প্রবণতা। এটা হল কী করে? পুলিশ প্রশাসন কী করছিল? কেন অভিষেককে ঘিরে এই তাণ্ডব এতক্ষণ চলতে দেওয়া হল?"
সোনারপুরের ঘটনা নিয়ে এ বার মুখ খুললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ এবং তাণ্ডবের একটি ভিডিও তৃণমূল সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিল। সেই ভিডিওটি শেয়ার করে মমতা লেখেন, “শাসকই হয়ে উঠল হত্যাকারী—লজ্জা তোমাদের, বিজেপি।।”
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.