
'কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে', ছেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে প্রথম এটাই বললেন বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়া প্রভাস মণ্ডলের মা সন্ধ্যা মণ্ডল। ছেলের মরদেহ পরিবারের কেউ আনতে যাবেন না বলেও তিনি জানিয়েছেন। ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের গুলিতে (এনকাউন্টারে) নিহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছেন, অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় সে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেছিল। পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিনজনের মধ্যে সে-ই ছিল অন্যতম।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার ক্রমপর্যায় পুনর্নির্মাণের জন্য বারুইপুর থানার একটি দল প্রভাশ মণ্ডলকে নিয়ে রাত পৌনে একটার দিকে সূর্যপুর এলাকায় যায়। সেখানেই মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশ জানায়, পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগে প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলবার কেড়ে নেয়, পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং পালানোর চেষ্টা করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়, যাতে সে আহত হয়। তাকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৫ জুলাই মৃতদেহ উদ্ধারের আগেই মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছিল। মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তোলে এবং অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানায়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বারুইপুর-জয়নগর রাস্তা অবরোধ করে এবং পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
ঘটনাটি আরও নাটকীয় মোড় নেয় যখন ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামের এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। উত্তেজিত জনতা তাকে অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আক্রমণ করেছিল। মেয়েটির মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে হত্যা করে। পুলিশ পরে জানায় যে, ওই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সঙ্গে ইন্দ্রজিতের কোনও যোগ ছিল না। তিনি নির্দোশ। গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে এবং ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিস্তারিত তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে।
বুধবার সকালে পুলিশ গিয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর দেয় প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডলকে। এরপর তিনি জানান, ছেলে কৃতকর্মের শাস্তি পেয়েছে। যেমন কাজ , তেমন পরিণাম। ছেলের অপরাধে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তার মা-ও। তাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ছেলের দেহ আনতে কেউ যাবেন না। তিনি বলেন, ঠপুলিশ এসে জিজ্ঞাসা করে, আপনার ছেলের নাম প্রভাস মণ্ডল? আমি বললাম হ্যাঁ। তার পর বলল, আপনার ছেলে মারা গেছে। আপনি দেখতে চান? আমি বলি ওর দেহ আনতে যাব না। ওকে দেখতে চাই না। কেউ ওর দেহ আনতে যাবে না। মায়ের কথা শুনত না। নেশা করত।"
বারুইপুরের এই ঘটনায় তদন্তে আরও এক অভিযুক্ত কবির মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে ধরে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশ। বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.