
আলিপুরদুয়ার জেলায় বাংলার বাড়ি প্রকল্প ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিজেপি কর্মী হওয়ার অভিযোগ তুলে নাম কেটে দেওয়ার দাবি এক গরিব মহিলার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের আগেই রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত মহাকালগুড়ি অঞ্চলের বালুবাড়ী গ্রাম।
আলিপুরদুয়ার জেলার ২ নম্বর ব্লকের মহাকালগুড়ি অঞ্চলের বালুবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা জয়া রায় অভিযোগ করেছেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের তালিকা থেকে হঠাৎই তাঁর নাম বাদ পড়ে গেছে। তাঁর দাবি, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও যখন প্রথম কিস্তির টাকা অন্যদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, তখন তিনি কোনও টাকা পাননি। অথচ অতীতে তাঁর নাম প্রকল্পের তালিকায় ছিল বলেও জানান তিনি। অঞ্চল অফিস থেকে শুরু করে বিডিও অফিস—সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও নিজের নামের কেন বাদ পড়ল তার কোনও হদিশ তিনি পাননি বলেও জানিয়েছে।
জয়া রায়ের আরও দাবি, তিনি বিজেপির সমর্থক বলেই তাঁর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে বালুবাড়ী গ্রামের বাকলা খালে বাঁধ নির্মাণের কাজে মান নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন—সেই কারণেও তাঁকে “টার্গেট” করা হয়েছে বলেও তাঁর বক্তব্য।
ঘটনার খবর পেয়ে জয়া রায়ের বাড়িতে যান মহাকালগুড়ি অঞ্চলের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা বিজয় দেবনাথ। সেখানেই তিনি সরাসরি বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। বিজয় দেবনাথের দাবি, “রাঘব বোয়ালের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যই এই গরিব মহিলার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, মহাকালগুড়ি অঞ্চলে অন্তত ২৫–৩০টি নাম শুধুমাত্র প্রতিবাদ করার কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, প্রথমে ব্লক অফিসে যাবেন, সেখানেও সমাধান না হলে ডিএম অফিস পর্যন্ত গিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন, যাতে প্রকৃত গরিব মানুষ তার প্রাপ্য ঘর পায়।
বিজয় দেবনাথ আরও দাবি করেন, তিনি প্রধানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন যাতে ঘরের তালিকা প্রকাশ্যে দেওয়ালে টাঙানো হয়, কিন্তু তা করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “অনেক এমন নাম আছে যাদের পাকা বাড়ি বা ছাদের বাড়ি রয়েছে, তবুও তালিকায় নাম আছে—এই কারণেই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।”
অন্যদিকে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মহাকালগুড়ি অঞ্চলের উপপ্রধান মদন দাস। তাঁর দাবি, বিরোধী দল করার জন্য কারও নাম কাটা হয়নি। বরং তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় যত বাড়ি দেওয়া হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিজেপি সমর্থকরাই পেয়েছে।” মদন দাস আরও জানান, জয়া রায়ের নাম অতীতে তালিকায় থাকলে এবং তিনি যোগ্য প্রার্থী হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রাপ্য তিনি অবশ্যই পাবেন।
উপপ্রধানের কথায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের প্রতীক এবং দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন। কেন্দ্রের বঞ্চনার পরেও রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু রাখা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। বিজেপির অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “দুয়ারের সরকার শিবিরে লাইনে প্রথমেই বিজেপি সমর্থকদেরই দেখা যায়—বঞ্চনার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”
একদিকে গরিব মহিলার আর্তি, অন্যদিকে শাসক–বিরোধীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সব মিলিয়ে বাংলার বাড়ি প্রকল্প ঘিরে মহাকালগুড়িতে তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। এখন প্রশ্ন একটাই—প্রকৃত উপভোক্তারা কি সত্যিই তাদের প্রাপ্য পাচ্ছেন, নাকি রাজনীতির চাপে হারিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বপ্নের ঘর?
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.