ভোটের দফা নিয়ে অতীতের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল রাজ্য বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১ দফা বা ২ দফায় ভোটের দাবি কমিশনে জানাল তারা। রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
ভোটের দফা নিয়ে অতীতের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল রাজ্য বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১ দফা বা ২ দফায় ভোটের দাবি কমিশনে জানাল তারা। রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেখানেই ৭-৮ দফায় নয় রাজ্যে এবারে এক বা দু’দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছে তারা। সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ১৮ দফা দাবি জানিয়ে এসেছে বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিজেপির প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চেয়ে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে ৭-৮ দফায় ভোট করানোর দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু, একুশের সেই দাবি থেকে একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল বিজেপি। অন্য়দিকে, এক দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছে সিপিএম। সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট করানো হলেও তাদের আপত্তি নেই।
কী কী দাবি বিজেপির
৬ সপ্তাহ ধরে ৭-৮ ধাপের দীর্ঘ নির্বাচনের পরিবর্তে স্বল্প সময়ের মধ্যে এক বা সর্বোচ্চ ২ দফায় ভোটগ্রহণ।
পূর্ববর্তী ৩টি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে বদলি হওয়া সকল অফিসারকে বদলি করা।
গত ৩টি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় এবং পরবর্তী সময়ে হিংসা দেখা গেছে এমন সমস্ত বুথকে সংবেদনশীল বুথ ঘোষণা। এছাড়াও, যেসব বুথে ৮৫% বা তার বেশি ভোটগ্রহণ রেকর্ড করা হয়েছে সেগুলিকেও সংবেদনশীল বুথ ঘোষণা।
রাজ্য পুলিশের উপর নির্ভর না করে স্থানীয় এলাকার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত CAPF কর্মীদের আগে থেকেই মোতায়েন করা।
সিএপিএফ-এর নোডাল অফিসারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া উচিত যাতে বাহিনীর চলাচল এবং বাহিনী যেন স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনও আতিথেয়তা গ্রহণ না করে, যেমনটি পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলিতে দেখা গেছে।
এলাকা সম্পর্কে জানতে এবং স্বাধীন মূল্যায়নের জন্য আগে থেকেই সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মোতায়েন করা উচিত।
স্থানীয় পুলিশের উপর নির্ভর না করে সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকদের চিহ্নিত এলাকাগুলির উপর ভিত্তি করে সিএপিএফ-এর আধিপত্য, আত্মবিশ্বাস তৈরির ব্যবস্থা, রুট মার্চ করা উচিত।
বৃহৎ বহুতল কমপ্লেক্সগুলিতে কমিশনের নিয়ম অনুসারে বাধ্যতামূলকভাবে প্রাঙ্গণের মধ্যে ভোটকেন্দ্র থাকতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কল্যাণ সংস্থা নিষিদ্ধ করা উচিত এবং এর সমস্ত অফিস ও কার্যক্ষম এলাকা সিল করে দেওয়া উচিত। এই সংস্থাটি টিএমসি-র একটি ‘সম্মুখ বাহিনী' হিসেবে কাজ করে। যারা অবৈধ আদেশ জারি করে এবং পুলিশ কর্মীদের ব্যালট পেপার কর্তাদের কাছে জমা দিতে বাধ্য করে।
ভোটারদের শনাক্তকরণের জন্য দুটি পদ্ধতি প্রয়োগ হোক। একটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত সিএপিএফ কর্মীদের দ্বারা এবং অন্যটি ভোটকেন্দ্রের ভিতরে প্রিসাইডিং/পোলিং অফিসার(দের) দ্বারা।
রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের ভোটগ্রহণ কক্ষের বাইরে বসতে হবে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিএপিএফ-এর তত্ত্বাবধানে থাকা উচিত। কোনও কারণেই রাজ্য বা কলকাতা পুলিশ বা ভলান্টিয়ারদের উপস্থিতি থাকবে না।
মোট ভোটকর্মীর মধ্য়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রের ৫০:৫০ মিশ্রণ থাকা উচিত। উল্লেখ্য যে মুখ্যমন্ত্রী
প্রকাশ্যে বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন মাত্র কয়েক সপ্তাহের জন্য ক্ষমতায় আছে, যেখানে
তিনি সেখানে আছেন এবং থাকবেন।
কোনও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক সহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা উচিত নয় এবং আউটসোর্সড এজেন্সি দিয়ে জল ইত্যাদির মতো যে কোনও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা উচিত।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবক্যাম স্থাপন করা উচিত এবং সকল প্রার্থী/অথবা জাতীয় ও রাজ্য দলগুলিকে
এটি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া উচিত।
যে কোনও ভোটকেন্দ্রে ওয়েবক্যাম যে কোনও কারণে অকার্যকর হয়ে গেলে, ভোটগ্রহণ অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। যদি সমস্যা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সেই ভোটকেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া উচিত।
গণনা শুধুমাত্র জেলা এবং মহকুমা-শহরগুলিতে করা উচিত, যেখানে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ৫০:৫০ অনুপাতে থাকতে হবে।
রাজ্য ও কলকাতা পুলিশকে ভোটগণনা কেন্দ্রে রাখলে হবে না। পুরোটাই CAPF-এর তত্ত্বাবধান গণনা করতে হবে।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.