
CPM Candidate List: শূন্য কাটানোর কঠিন লড়াইয়ে এবার প্রার্থীরাই ভরসা সিপিএমের। স্বচ্ছ, লড়াকু, মানুষের সঙ্গে থাকা প্রার্থীরাই এবার দলকে বিধানসভায় নিয়ে যাবে এই আশায় বুক বেঁধেছে লাল শিবির। মার্চের শুরুতেই প্রার্থী ঘোষণা করে আদাজল খেয়ে পশ্চিমবাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে নামছে সিপিএম সহ বাম দলগুলি। নওসাদ সিদিক্কির আইএসএফ-কে ৫০টি আসন ছেড়ে বামদলগুলি বাকি আসনে লড়তে চায়। আপাতত ঠিক আছে ফরওয়ার্ড ব্লককে ২৮টি, সিপিআই ও আরএসপিকে ২০টি করে আসন ছেড়ে দিয়ে লিবারেশনের দাবি নিয়ে বসবে সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্ব। লিবারেশনকে ৮ থেকে ১০টি আসন ছাড়া হতে পারে। আলোচনা চললেও তৃণমূল ছেড়ে নিজের দল খোলা হুমায়ন কবীরের সঙ্গে জোট গড়ে সিপিএমের লড়ার সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে। দেড়শোরা মত আসনে লড়ার পথে সিপিএম। তার মধ্যে ৫-১০টি আসনে জেতা, আর ৫০টি আসনে দ্বিতীয় স্থানে থাকার লক্ষ্যে এগোতে চাইছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
রাজ্যে শেষবার কোনও বড় ভোটে আসন পায় সিপিএম, সেটা ছিল ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে। এরপর ২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভায় পুরোপুরি খালি হাতে ফেরে কাস্তে হাতুড়ি তারা-র প্রতীকে লড়া দল। তার মাঝে সব কটা উপনির্বাচনেও পরাস্ত হয় সিপিএম। এখন সবার একটাই প্রশ্ন রাজ্য বিধানসভায় ফের কোনও সিপিএমের বিধায়ককে দেখা যাবে কি? ২০২৪ লোকসভায় একমাত্র দমদমে সুজন চক্রবর্তী ছাড়া রাজ্যের বাকি ৪১টি আসনেই জামানত জব্দ হয়েছিল বাম প্রার্থীদের। একটা সময় গড় হিসাবে পরিচিত কেন্দ্রগুলিতেও জামানত জব্দ হয় সিপিএম প্রার্থীদের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের লক্ষ্য শুধু খাতা খোলা নয়, সঙ্গে জামানত জব্দ এড়ানোয়। বেশ কিছু আসনে দ্বিতীয় হওয়ার মরিয়া লড়াইয়েও লড়তে চাইছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের শীর্ষ নেতারা।
প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার পর দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব বাড়াচ্ছে সিপিএম। প্রার্থী তালিকাতেও তার প্রভাব পড়তে চলেছে। যেসব জায়গায় জয় সম্ভব নয়, সেখানে আগামী দিনের কথা ভেবে তরুণ নেতাদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জয়ের সম্ভাবনা থাকা বা লড়াইয়ে থাকা আসনগুলিতেও তরুণ নেতাদের টিকিটের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোটের ওপর ঠিক হয়ে গিয়েছে, সুজন চক্রবর্তী লড়বেন যাদবপুর থেকে। উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষি মুখোপাধ্যায়, বালি থেকে দীপ্সিতা ধরের সিপিএম প্রার্থী হওয়া প্রায় নিশ্চিত। কসবা থেকে বারবার হেরে যাওয়া শতরূপ ঘোষ এবার লড়তে পারেন দমদম উত্তর থেকে। সবচেয়ে বড় চমকে সিঙ্গুর থেকে টলিউডের তারকা অভিনেতা বাদশা মৈত্রকে প্রার্থী করতে পারে সিপিএম। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে জাকির হোসেন মল্লিক বাম প্রার্থী হতে পারেন। মহম্মদ সেলিমকে মুর্শিদাবাদের কোনও একটি আসনে প্রার্থী করা হতে পারে। গতবার টালিগঞ্জ থেকে লড়া টলিউড অভিনেতা দেবদূতকে দক্ষিণ কলকাতার কোনও একটি আসনে দাঁড় করানো হতে পারে। ভাঙড়ে এবারও আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকিকেই সমর্থন করবে লাল শিবির।
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, শ্রীদীপ ভট্টাচার্যদের মত হাইপ্রোফাইল নেতারা প্রার্থী হবেন নিশ্চিত, কিন্তু কোন কেন্দ্র তা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। বেহালা পূর্বে দলের কোনও পুরনো কাউন্সিলরকে প্রার্থী করার ভাবছে সিপিএম। এখান থেকে তৃণমূল প্রার্থী হচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। ২০১৬ বিধানসভায় দমদমের এই কেন্দ্র থেকে চন্দ্রিমাকে হারিয়েছিলেন সিপিএমের তন্ময় ভট্টাচার্য। তন্ময়ের জায়গায় এবার কাস্তে হাতুড়ি চিহ্নে লড়তে পারেন শতরুপ। কসবায় শতরুপের পরিবর্তে দাঁড়াতে পারেন সৃজন ভট্টাচার্য। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিএমের হয়ে লড়ে সৃজন আড়াই লক্ষের মত ভোট পেয়েছিলেন। কসবাতে মন্দের ভাল ফল হয়েছিল সৃজনের।
বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে ভাল ফল করা সায়রা শাহ হালিম লড়তে পারেন এন্টালি থেকে। বেহালা পশ্চিমে এবার কৌস্তুভ চট্টোপাধ্য়ায়কে দাঁড় করাতে পারে সিপিএম। ২০১৬ বিধানসভায় বেহালার এই কেন্দ্রে পার্থ চ্য়াটার্জির বিরুদ্ধে বেশ লড়েছিলেন কৌস্তুভ। কামারহাটি, খড়দায় যথাক্রমে সায়নদীপ মিত্র ও দেবজ্য়োতি মিত্র টিকিট পেতে চলেছেন। টালিগঞ্জে মোনালিসা সিনহা, বিধাননগরে পলাশ দাস, আসানসোলের জামুরিয়ায় ঐশী ঘোষ, নোয়াপাড়ায় গার্গী চট্টোপাধ্যায়, বালিগঞ্জে কলতান দাশগুপ্ত, মানিকতলায় দেবাঞ্জন দে, বসিরহাট উত্তরে সপ্তর্ষী দেব, সোনারপুর দক্ষিণে সায়ন বন্দ্য়োপাধ্যায়কে প্রার্থী করতে চলেছে সিপিএম। অন্তত জল্পনা তেমনই।
West Bengal News (পশ্চিমবঙ্গের খবর): Read In depth coverage of West Bengal News Today in Bengali including West Bengal Political, Education, Crime, Weather and Common man issues news at Asianet News Bangla.